শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কক্সবাজারে মৃত্যুাপন্ন এক মায়ের জীবন বাঁচাতে ডা. আরিফা মেহের রুমির সাহসী উদ্যোগ

কক্সবাজারে মৃত্যুাপন্ন এক মায়ের জীবন বাঁচাতে ডা. আরিফা মেহের রুমির সাহসী উদ্যোগ

কক্সবাজারে মৃত্যুাপন্ন এক মায়ের জীবন বাঁচাতে ডা. আরিফা মেহের রুমির সাহসী উদ্যোগ

৫ আগস্ট—জুলাই বিপ্লবের চেতনায় সাহস, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক প্রতীকী দিন। এমন একটি দিনেই চিকিৎসকের পেশাগত সাহসিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কক্সবাজারের সুপরিচিত গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফা মেহের রুমি।
তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন

জানা গেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রসববেদনায় কাতর প্রসূতি কাজল রেখা মারাত্মক সংকটাপন্ন অবস্থায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। তবে কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালেও তাকে ভর্তি নিতে অনীহা প্রকাশ করা হয়। পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রামে নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও, পথেই রোগীকে হারানোর আশঙ্কায় তারা প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।
 

এমন সংকটময় মুহূর্তে তারা শরণাপন্ন হন গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফা মেহের রুমির। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় তিনি দ্রুত অস্ত্রোপচারের (সিজার) সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের সময় ও পরবর্তীতে রোগীকে টানা চার ব্যাগ রক্ত প্রদান করা হয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। তাৎক্ষণিক অপারেশন ও সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মা ও নবজাতককে নিরাপদ করেন। তার এই মানবিক সেবার জন্য স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন মহলে তিনি ব্যাপক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা অর্জন করেছেন।

 

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এমন অবস্থার রোগীর সাধারণত আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। কিন্তু নিরলস চিকিৎসা, দক্ষতা ও আন্তরিক পরিচর্যার ফলে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরতে শুরু করেন কাজল রেখা।
এ ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই ডা. আরিফা মেহের রুমির সাহসিকতা, পেশাগত দক্ষতা ও মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের ভাষায়, “একজন মায়ের জীবন বাঁচাতে এমন সাহসী ও মানবিক চিকিৎসকই সমাজের প্রয়োজন।”
কাজল রেখার স্বামী, রাজমিস্ত্রী খোরশেদ আলম, মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে ডা. আরিফা মেহের 

রুমির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসকের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই আজ তার স্ত্রী নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন।
মানবিকতা, পেশাগত দক্ষতা ও সাহসিকতার এমন দৃষ্টান্ত চিকিৎসা সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে বলেই সংশ্লিষ্টদের অভিমত।  

মীর কাশেম আজাদ,কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ