শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অন্ধ মারুফের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

অন্ধ মারুফের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

অন্ধ মারুফের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নাজমুল হক, নওগাঁ জেলা : 
জন্ম থেকেই চোখের আলো নেই বাবার। হাটে হাটে গান গেয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। সেই অন্ধ বাবার ভরসা ছিল তিন ছেলের একজন মারুফ হোসেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে বাবার চোখ হতে চাওয়া সেই ছেলেটিও আজ অন্ধ।


নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসেন। তার বাবা আব্দুস সোবহান জন্মগতভাবে অন্ধ। তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলের আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। সংসারের হাল ধরতে মাত্র তিন বছর আগে বদলগাছী উপজেলার পারসোমবাড়ি এলাকায় একটি ট্রলিতে করে  কাজ করতে গিয়েছেলেন  মারুফ।

ঘটনার দিন কাজ শেষে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এরেস্টো ফার্মা কোম্পানির  একটি গাড়ি পেছন থেকে তাকে  ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহীতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২০ দিন হাসপাতালে ভর্তি রেখে অপারেশন করা হয়। এরপর আরও এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।  মারুফের পরিবারের অভিযোগ , রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ধীরে ধীরে মারুফ তার দৃষ্টিশক্তি হারান।


দুর্ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বহু চিকিৎসা ও অপারেশনের পরও আজ পর্যন্ত ফেরেনি তার চোখের আলো। বর্তমানে মারুফ সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। একদিকে জন্মগত অন্ধ বাবা, অন্যদিকে দুর্ঘটনায় অন্ধ ছেলে—দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বে মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারটি।

 

অপারেশন, চিকিৎসা আর দীর্ঘ অপেক্ষা সবকিছু পেরিয়েও ফেরেনি চোখের আলো। অন্ধ বাবার অন্ধ ছেলে হয়ে আজ মারুফ বেঁচে আছে কেবল সহানুভূতি আর সহায়তার আশায়।


প্রতিবেশীরা জানায় “মারুফের বাবা জন্ম থেকেই অন্ধ। বাবার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ছেলেটা সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সেই ছেলেটাও এখন চোখে দেখতে পারে না। পরিবারটির কষ্ট নিজের চোখে দেখলে যে কারও মন কেঁদে উঠবে। আমরা চাই, সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টরা তাদের পাশে দাঁড়ান।

সরকারের পক্ষ থেকে যদি উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও আর্থিক সহায়তা করা হয়, তাহলে হয়তো মারুফের জীবনে আবার আলো ফিরতে পারে।”