তৈয়বুর রহমান কালীগঞ্জ, গাজীপুর
একদিকে নতুন ভবনের উদ্বোধন, অন্যদিকে ফুটবল মাঠে উত্তেজনা। কোথাও শিক্ষার্থীদের যুক্তির লড়াই, কোথাও বই পড়ার প্রতিযোগিতা। আবার মঞ্চে নজরুলের গান-নৃত্য, হাতে গাছের চারা আর সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান। এক দিনের আয়োজনেই যেন শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হলো জীবন গড়ার নানা পথ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে এমনই বৈচিত্র্যের দেখা মেলে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভেন্যুতে চলা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম।
দিনের শুরুতেই সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিতে যোগ হয় উন্নয়নের বার্তা। নতুন ভবনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
এরপর আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে আয়োজন চলে যায় খেলার মাঠে। আন্তঃবিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হয় সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ বনাম সেইন্ট নিকোলাস হাইস্কুল এবং পানজোরা গার্লস হাইস্কুল বনাম তুমুলিয়া বয়েজ হাইস্কুল। মাঠজুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় প্রতিযোগিতামুখর পরিবেশ।
খেলার পাশাপাশি চলতে থাকে মেধা বিকাশের আয়োজন। বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র ও বই পড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের যুক্তি, জ্ঞান ও পাঠাভ্যাসের প্রকাশ ঘটায়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার সঙ্গে সংস্কৃতির যোগসূত্র তৈরি করতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তাদের মাঝে বিতরণ করা হয় গাছের চারা।
দিনের দ্বিতীয়ার্ধে আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু হয় কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ (আরআরএন) সরকারি পাইলট স্কুল। সেখানে নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় সংবর্ধনা। মেধাবীদের সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে।
দিনের শেষভাগে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি বিষয় সামনে আসে-মাদক। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে অনুষ্ঠিত হয় মাদকবিরোধী সমাবেশ।
পাশাপাশি পৌরসভার LINIC সদস্যদের মধ্যে চারা গাছ বিতরণ করা হয়। ফলে দিনের শেষ কর্মসূচিতেও যুক্ত হয় পরিবেশ রক্ষার বার্তা।
এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম. রকিবুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাজিব হাসান, সহকারী কমিশনার আল-আমিন হাওলাদার, আরিফ হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
একদিনের আয়োজন হলেও এর বিষয় ছিল বিচিত্র-ভবন নির্মাণ থেকে মেধার বিকাশ, ফুটবল থেকে সংস্কৃতি, বৃক্ষরোপণ থেকে মাদকবিরোধী সচেতনতা। কালীগঞ্জের দিনটি তাই কেবল কয়েকটি অনুষ্ঠানের সমষ্টি হয়ে থাকেনি; বরং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বিত পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি বার্তা হয়ে উঠেছে।