ঐতিহ্যবাহী হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালীন কয়েকজন শিক্ষকের বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান ও চায়ের আড্ডায় সময় কাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কেউ কেউ।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান চলাকালীন সহকারী শিক্ষক মুখলেসুর রহমানসহ তিন-চারজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের বাইরে একটি চা-স্টলে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। সেখানে তারা গল্প-আড্ডা ও ধূমপানে ব্যস্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে কোনো কোনো সময়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবকদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য জানা গেলে সংবাদে তা সংযোজন করা হবে।
প্রশ্ন থেকেই যায়—শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালীন কোনো শিক্ষক অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করলে, তা শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
আপনার মতামত কী?
বদরুজ্জামান ভূইয়া সোহাগ
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি