রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনাবৃষ্টি ও খরায় পোরশায় আমন ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকার তাণ্ডব: দিশেহারা কৃষক

অনাবৃষ্টি ও খরায় পোরশায় আমন ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকার তাণ্ডব: দিশেহারা কৃষক

অনাবৃষ্টি ও খরায় পোরশায় আমন ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকার তাণ্ডব: দিশেহারা কৃষক

​মোঃ আরিফুল হক সাহিন, পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি


​নওগাঁর সীমান্তে বরেন্দ্র অঞ্চল পোরশায় বর্ষা মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই। তীব্র খরা ও দাবদাহে ধান ক্ষেত যখন ফেটে চৌচির, ঠিক তখনই কৃষকের ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষতিকর পোকার ব্যাপক আক্রমণ। আষাঢ়-শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্র মাস চললেও বৃষ্টির অভাবে একদিকে রোপা আমনের চারা বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে পানির অভাবে ক্ষতিকর পোকা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।
​উপজেলার নিতপুর, ছাওড়, ঘাটনগর, মশিদপুর ও গাঙ্গুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ধানি জমি পানির অভাবে শুষ্ক হয়ে গেছে। বৃষ্টির জল না পাওয়ায় জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগেই আমন ক্ষেতে দেখা দিয়েছে মাজরা, পাতা মোড়ানো এবং কারেন্ট পোকা বা বাদামি গাছফড়িংয়ের (বিপিএইচ) মারাত্মক আক্রমণ। পোকার আক্রমণে ধানের পাতা লালচে ও হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।
​কৃষকরা জানান, পোকা দমনে দফায় দফায় দামি কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো সুফল মিলছে না। একদিকে সেচ খরচ, অন্যদিকে অতিরিক্ত কীটনাশকের খরচ সামলাতে গিয়ে তাঁদের নাভিশ্বাস উঠছে। পানির অভাবে পোকা দমন করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।
​উপজেলার ঘাটনগর এলাকার কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, "বৃষ্টির অভাবে এমনিতেই আমাদের মাথায় হাত। তার ওপর ধানে পোকা লেগে সব শেষ করে দিচ্ছে। দিনে দু-তিনবার কীটনাশক দিয়েও পোকা মরছে না। সময়মতো বৃষ্টি হলে পোকার তাণ্ডব অনেকটাই কম থাকত।"
​কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা বজায় থাকলে ধানে চোষক ও মাজরা পোকার বংশবৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে এসব পোকা স্বাভাবিকভাবেই ধুয়ে-মুছে নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু অনাবৃষ্টি পোকার আক্রমণের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
​এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, অনাবৃষ্টির কারণে ক্ষেতে পোকার প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছে। তবে কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে কৃষকদের সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, আলোকফাঁদ স্থাপন এবং জমে থাকা বা সেচের পানিতে জালি বা পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের পরাামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
​প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ ও পোকার আক্রমণের ফলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোরশার কৃষক সমাজ এখন একদিকে যেমন বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার প্রহর গুনছেন, অন্যদিকে সরকারি সহায়তার আশা করছেন।