আবু জাফর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ির নাটমন্দির প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন কুমার শীলের সভাপতিত্বে এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক নিত্যানন্দ আমিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জি এবং জয় মহাপ্রভু সেবক সংঘের জেলা সভাপতি ডা. সুশান্ত ঘোষ।
বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন মানবজাতিকে সত্য, ন্যায়, প্রেম, মানবিকতা ও ধর্মের পথে চলার শিক্ষা দেয়। অন্যায়, অসত্য ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠাই শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শের অন্যতম শিক্ষা। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করবে—এটাই রাষ্ট্রের প্রত্যাশা। জন্মাষ্টমীর এ আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার বলেন, ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
আয়োজকরা জানান, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দুপুরে ভাগবত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। পরে বিকেল ৫টায় পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মায়ের বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, মন্দির ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশ নেন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।