দেনার টাকা পরিশোধ এড়াতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি এলাকার বেদেপল্লি থেকে তাঁকে উদ্ধার করেছে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আঃ মান্নান প্যাদা পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভ গ্রামের প্যাদা বাড়ির জয়নাল আবেদীন প্যাদার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে বরগুনার তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রবেশপথে ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে একটি ভাতের হোটেল চালাতেন আঃ মান্নান। সেখানে দুটি কোম্পানির শ্রমিকেরা খাবার খেতেন। ওই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে খাবারের বিল বাবদ তাঁর প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার ও ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল।
পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে হোটেলের ম্যানেজার মো. নুর আলম সিকদারের পরামর্শে আঃ মান্নান আত্মগোপনে যান বলে পুলিশের ভাষ্য। এরপর তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে এমন নাটক সাজানো হয়। প্রথমে তাঁর ছেলে মো. জসিম প্যাদা পটুয়াখালী সদর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ওই বছরের ১৪ আগস্ট পাওনাদারদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩৬৫ ও ১০৯ ধারায় আদালতে মামলা করা হয়।
পুলিশের দাবি, আত্মগোপনে থাকার সাড়ে চার বছরে আঃ মান্নান পটুয়াখালী, ঢাকা, আখাউড়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন। কখনো মাজারে, কখনো দারোয়ানের চাকরি করে এবং বিভিন্ন বেদেপল্লিতে ছদ্মবেশে থেকেছেন তিনি। সবশেষ বাগেরহাটের একটি মাজারে কাজল নামে এক নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই নারীর বরিশালের বাসায় যান। সেখান থেকে ওই নারীর ভগ্নিপতির মাদারীপুরের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
পুলিশ আরও জানায়, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আঃ মান্নান তাঁর ছেলেকে দিয়ে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে করা অপহরণ মামলাটি চালিয়ে যান। ফলে মামলার আসামিদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে পটুয়াখালী ডিবি। পরে বুধবার গভীর রাতে কালকিনির বেদেপল্লিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আঃ মান্নান জানিয়েছেন, দেনার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পাওনাদারদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে তিনি আত্মগোপনে যান। দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারের পর আঃ মান্নানকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলমান। অপহরণ মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ম্যানেজার নুর আলম সিকদারসহ অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যুরো প্রধান (বরিশাল)