মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় স্ত্রী ও দেড় বছরের কন্যাশিশুকে হত্যার পর ইকরাম হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন—ইকরাম হোসেন (৪০), তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২০) এবং তাদের দেড় বছরের কন্যাশিশু আলীজা আক্তার।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় ইকরাম হোসেন তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার ও কন্যাশিশু আলীজা আক্তারকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পরে নিজ ঘরের আড়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
শনিবার(১৯ সেপ্টেম্বর )সকালে পরিবারের লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, ইকরাম হোসেন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ বা পারিবারিক কলহ ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহরম আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে ইট দিয়ে আঘাত করে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর ইকরাম হোসেন নিজেই ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। সকালে বাড়ির লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কী কারণে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর ইকরাম হোসেন আত্মহত্যা করেছেন, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মুহাম্মদ সুজন মোল্লা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
