শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের তস্তারকান্দি এলাকায় চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক এমডি ইকবালের ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মহলের বিরুদ্ধে। তবে, বিদ্যুৎ সংযোগটি নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন রেস্টুরেন্ট মালিক ইকবাল। একই কথা জানিয়েছেন শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইকবালের দাবি, পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ ফিডার থেকে রেস্টুরেন্টে সংযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি চাঁদা দাবি করলেও তা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
ইকবাল বলেন, “ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্ট নির্মাণের সময় অন্য একটি ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ওই ফিডারে পর্যাপ্ত লোড না থাকায় রেস্টুরেন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে ব্যবসার স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।”
তিনি জানান, এ জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে আবেদন করা হয়। আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করেন। কোন ফিডারে পর্যাপ্ত লোড রয়েছে, নতুন লাইন নির্মাণে কী ধরনের কারিগরি ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং কোন পথে লাইন নেওয়া সম্ভব, এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। পরে টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড থাকায় সেখান থেকে সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ইকবালের ভাষ্য, নতুন লাইন নির্মাণের পুরো ব্যয় তিনি গ্রাহক হিসেবে নিজেই বহন করেছেন। পাশাপাশি যে জায়গা দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
ইকবাল বলেন, “স্থানীয় কিছু ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় তারা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাদের হুমকি ছিল, চাঁদা না দিয়ে এখানে কীভাবে ব্যবসা করি, সেটি তারা দেখে নেবেন।”
এ বিষয়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) নাজমুল হাসান বলেন, টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড ছিল। কারিগরি দিক পর্যালোচনা করেই সেখান থেকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন লাইন নির্মাণের কাজ গ্রাহকের নিজস্ব অর্থায়নে হয়েছে।
তিনি বলেন, “এ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। কারিগরি সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যাচাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ওই ফিডার থেকে আরও গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া সম্ভব। এতে টোলপ্লাজা বা অন্য কারো কোনো সমস্যা হবে না।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (পদ্মা সেতু) আবু সাদ নিলয় বলেন, “সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গা ব্যবহারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়মে অনুমতি নিয়েছে। এ জন্য এককালীন ভাড়ার শর্তও ছিল।”
তিনি বলেন, “পুরো নিয়ম মেনেই সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও খুঁটি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
রেস্টুরেন্ট মালিকের অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা