রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এলজিইডির ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

এলজিইডির ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

এলজিইডির ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী মীর নাজমুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ও বিল সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকৌশলী মীর নাজমুল হক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও নানা অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে রাখা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় মীর নাজমুল হকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে, যার নাম ‘নাজ প্যালেজ-১’। ভবনটির মালিকানা ও অর্থের উৎসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করে দেখার দাবি উঠেছে। ‘নাজ প্যালেজ-১’ নামের ভবন থাকায় আরও সম্পদ বা একই ধরনের একাধিক স্থাপনা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগে কুমারখালী উপজেলাধীন চকরগুয়াুসদরপুরুভেদরী মোড় সড়ক পুনর্বাসন (চেইনেজ ২৫১৩ু৪০১৫ মিটার), রোড আইডি-২৫০৭১৪০৬৫ এবং মহেন্দ্রপুরুচর জগন্নাথপুর (ওসমানগনি) সড়ক পুনর্বাসন (চেইনেজ ০০৭৮০ মিটার), রোড আইডি-২৫০৭১৪০৭৫ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দুটি কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১. মেসার্স এন আর এন্টার প্রাইজ, ২. মেসার্স আরফা কনষ্ট্রাটশন স্বত্বাধিকারী মোঃ আব্দুস সামাদ নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার পর বিল উত্তোলনের সময় জটিলতার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সিডিউলে ৩ ইঞ্চি এজিং করার কথা থাকলেও উপজেলা প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সাদা কাগজে ৫ ইঞ্চি এজিং করার নির্দেশ দেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি, কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ ইঞ্চি কাজ করার পর অতিরিক্ত কাজের অর্থ পরিশোধে আপত্তি করা হয়।

এ নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ পরিশোধের দাবি জানালে তাদের অন্যান্য কাজের বিলও আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফ হোসেনের মাধ্যমে কাজের অনিয়মের কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয় এবং কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কাজের ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও সরেজমিন পরিদর্শন করা হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাদের দাবি, ওই পরীক্ষা ও সরেজমিন যাচাইয়ে দুটি সড়কের কাজ সঠিক পাওয়া যায়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লিখিত নথি, ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং প্রকল্পের বিল-ভাউচার যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, একই সময়ে চলমান আরও দুটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং বিষয়টি নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলসহ স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তাদের দাবি, ওই প্রকল্পগুলোর বিল পরবর্তীতে পরিশোধ করা হলেও বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

তবে পূর্বের প্রকল্পগুলোর অনিয়ম এবং বর্তমান বিল আটকে রাখার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ৯০ দিনের মধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটি হলো কুমারখালী উপজেলাধীন সুলতানপুরুফুলতলা পাকা সড়ক নিউনিব্লক দ্বারা উন্নয়ন, চেইনেজ ১৮১০ু৩০১০ মিটার, রোড নং-২৫০৭১৪০১৪।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন জটিলতার কারণে সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাদের অভিযোগ, দপ্তরের গড়িমসি ও বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় পরবর্তীতে তাদের বিল আটকে দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে মেসার্স মো. আব্দুস সামাদ খান আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযোগকারীরা বলছেন, প্রকল্পগুলোর প্রাক্কলন, দরপত্র, কার্যাদেশ, মাপবই (এমবি), ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্ট, বিল-ভাউচার, কাজ বন্ধের নোটিশ, সময়সীমা নির্ধারণের নথি এবং পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।

তাদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ সত্য না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও নথি প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হোক।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মীর নাজমুল হক, সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নাই। একাধিকবার মোবাইল করলে ফোন রিসিভ করেন নাই।

 


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

মীর রকিবুল ইসলাম