সিনেমা দেখতে যাওয়া মানেই শুধু বিনোদন নয়, শরীর-মন ভালো রাখারও একটি উপায়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা মানুষের জৈবিক বার্ধক্য বা বায়োলজিক্যাল এজিংয়ের গতি তুলনামূলক কম হতে পারে। সিনেমা দেখা, গান শোনা, বই পড়া, গ্যালারি বা মিউজিয়ামে যাওয়া-এই ধরনের নানা সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের যোগ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) গবেষকরা মার্কিন যুক্তরাজ্যের ৩,৫৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভ্যাসের পাশাপাশি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গবেষকেরা ডিএনএতে বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে জৈবিক বয়স এবং বয়স বাড়ার গতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করেন।
গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত সাংস্কৃতিক বিষয়ে অংশ নেন, তাদের মধ্যে বয়স বাড়ার গতি তুলনামূলক কম হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সপ্তাহে এক দিন সিনেমা দেখলেই সরাসরি আয়ু বেড়ে যাবে। গবেষণাটি মূলত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জৈবিক বার্ধক্যের মধ্যে সম্পর্ক দেখিয়েছে।
গবেষণায় শুধুমাত্র সিনেমা দেখার প্রভাব আলাদা করে পরীক্ষা করা হয়নি। বরং বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এক সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ কমা, সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় থাকার মতো একাধিক বিষয়ও স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। গবেষকদের বক্তব্য, শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রভাব কিছু ক্ষেত্রে শরীরচর্চার সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে।
তবে সিনেমা কি ‘অ্যান্টি-এজিং’ ওষুধ? গবেষণাটি পর্যবেক্ষণমূলক হওয়ায় এখান থেকে সরাসরি বলা যায় না যে সিনেমা দেখা বা অন্য কোনও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডই ধীরে বয়স বাড়ার কারণ। গবেষণায় আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, শিক্ষা, আয়, ধূমপান এবং বিএমআইয়ের মতো বিভিন্ন বিষয়ও বিবেচনা করা হয়েছিল। তবু গবেষকেরা মনে করছেন, সংস্কৃতি ও শিল্পের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা