মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অসুস্থ শিশুকে নিয়েই জীবিকার লড়াই সুমনের লড়াই।

অসুস্থ শিশুকে নিয়েই জীবিকার লড়াই সুমনের লড়াই।

অসুস্থ শিশুকে নিয়েই জীবিকার লড়াই সুমনের লড়াই।

এক হাতে অটোর স্টিয়ারিং, পাশে ১০ মাসের অসুস্থ সন্তান। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন এমন দৃশ্যই দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের সুমন মিয়ার জীবনে। নিজের কোনো অটো নেই, ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটো চালিয়েই চলে তাঁর সংসার। একদিন গাড়ি চালাতে না পারলে পরিবারের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
৪৫ বছর বয়সী সুমনের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। তাঁর স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। অন্যদিকে ১০ মাস বয়সী শিশুটিও অসুস্থ। শিশুটিকে দেখাশোনার জন্য বাড়িতে কেউ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে সঙ্গে নিয়েই অটো চালাতে বের হন সুমন।
সুমন মিয়া জানান, প্রতিদিন অটো ভাড়া নিয়ে বের হন তিনি। সারাদিন পরিশ্রম করে যে আয় হয়, তা দিয়ে খাবারসহ সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হয়। শিশুটির চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘আমি অটো চালালে সংসারে খাবার আসে। যেদিন গাড়ি চালাতে পারি না, সেদিন সংসারে খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে যায়। বাচ্চাকে বাড়িতে রেখে যাওয়ার মতো কেউ নেই। তাই অসুস্থ বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়েই গাড়ি চালাতে হয়।’
সুমন আরও বলেন, ‘আমার বাচ্চার চিকিৎসা দরকার। কিন্তু আমার একার পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে আমার বাচ্চার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাই।’
স্থানীয় অটোচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘সুমনের অবস্থা খুবই কষ্টের। নিজের কোনো অটো নেই, ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে সংসার চালান। স্ত্রী অসুস্থ, ছোট বাচ্চাটিও অসুস্থ। বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়েই তাকে গাড়ি চালাতে হয়। শিশুটির চিকিৎসার জন্য কেউ সহযোগিতা করলে পরিবারটির অনেক উপকার হবে।’
আরেক অটোচালক জামাল মোল্লা বলেন, ‘সুমনকে আমরা প্রতিদিন গাড়ি চালাতে দেখি। অনেক সময় তাঁর ছোট বাচ্চাটিও অটোর মধ্যে থাকে। সংসারের দায়িত্ব সামলাতে তাকে একাই অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। বাচ্চাটির চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভাবের কারণে অসুস্থ শিশুকে সঙ্গে নিয়ে সুমনের এভাবে অটো চালানোর দৃশ্য তাদেরও কষ্ট দেয়। শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


শাহ মোহাম্মদ ফোরকানুল ইসলাম