ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি সুরিয়া ও জ্যোতিকা। ভালোবেসে ঘর বেঁধেছেন তারা। কয়েক দিন আগে ঘটা করে ২০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেন এই যুগল। সুরিয়া-জ্যোতিকার প্রেমকাহিনি রুপালি পর্দার গল্পের চেয়েও কম নয়।
জ্যোতিকার সঙ্গে ছেলে সুরিয়ার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন তামিল সিনেমার প্রবীণ অভিনেতা শিবকুমার। সুরিয়াকে তার মা একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন—কেন সে প্রেমে পড়ছে না। সেই ঘটনা বর্ণনা করে সুরিয়ার বাবা শিবকুমার বলেন, “সুরিয়ার উত্তর খুবই সরল ছিল। সুরিয়া বলেছিল, ‘যে-সে মেয়ের প্রেমে তো আর পড়া যায় না।”
পরে জ্যোতিকার প্রেমে পড়েন সুরিয়া। জ্যোতিকা তখন মুম্বাইয়ের মেয়ে। তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে সুরিয়া এতটাই অনড় ছিলেন যে, বিয়ের জন্য ৪ বছর অপেক্ষা করেছিলেন। এসব তথ্য স্মরণ করে শিবকুমার বলেন, “সুরিয়ার একটাই কথা ছিল—যদি বিয়ে করতেই হয়, তাহলে তাকেই (জ্যোতিকা) করবে। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে।”
বিয়ের পর জ্যোতিকা কীভাবে তাদের পরিবারের সঙ্গে থেকেছে, সেসব কথাও উল্লেখ করেছেন শিবকুমার। তিনি বলেন, “বিয়ের পর সে চাইলে সুরিয়াকে নিয়ে মুম্বাই গিয়ে থাকতে পারত। আমি কিছুই বলতে পারতাম না। কিন্তু সে এখানে ১৮ বছর থেকেছে। তাছাড়া এখনকার সময়ে অনেক অভিনেত্রী বিয়ের পর সন্তান নিতে চান না। কেউ কেউ স্বামীকে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকেও আলাদা হতে বলেন। কিন্তু জ্যোতিকা আমাদের পরিবারে বিয়ে করে এসেছে, আমাদের সঙ্গে থেকেছে এবং এই সময়ের মধ্যেই দুই সন্তানের মা হয়েছে।”
‘নেরুক্কু নের’ সিনেমার মাধ্যমে সুরিয়ার সিনেমা জগতে অভিষেক হয়। এই সিনেমা প্রযোজনা করেন মনি রত্নম। কিন্তু শুরুর দিকে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। এরই মধ্যে ১৯৯৯ সালে ‘পুভেল্লাম কেট্টুপার’ সিনেমার শুটিংয়ে জ্যোতিকার সঙ্গে সুরিয়ার প্রথম দেখা। সেই সময় দুজনই তেমন বড় তারকা হননি। অন্যদিকে, মুম্বাইয়ে বড় হওয়ায় তামিল ভাষাও খুব একটা জানতেন না জ্যোতিকা। সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পরবর্তীতে তামিল ভাষা শেখেন। কাজের প্রতি এই অভিনেত্রীর আত্মত্যাগ, সংলাপ বলার ধরন, সহকর্মীদের প্রতি বিনয় সুরিয়াকে খুব আকর্ষণ করে।
ধীরে ধীরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেন জ্যোতিকা এবং বড় তারকা হয়ে ওঠেন। ২০০১ সালের ঘটনা। জ্যোতিকার শুটিং সেটের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সুরিয়া। তাকে দেখে সহকারীর মাধ্যমে এই অভিনেতাকে ডাকেন। সেখানে তাদের অনেক কথা হয় এবং ধীরে ধীরে ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন। এরপর সুরিয়ার বিভিন্ন পার্টিতে নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন জ্যোতিকা।
২০০১ সালে সুরিয়া অভিনীত ‘নন্দ’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এই সিনেমার প্রিমিয়ারে হাজির হয়েছিলেন জ্যোতিকা। তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তার পরবর্তী সিনেমা ‘কাখা কাখা’-তে (পরবর্তীতে ফোর্স নামে হিন্দি রিমেক হয়) নেওয়ার জন্য পরিচালক গৌতম মেননকে অনুরোধ করেন এই অভিনেত্রী। সিনেমাটির সেটেই পরস্পরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সিনেমার শুটিং শেষেই বাগদানের পরিকল্পনা করেন তারা। অনেকটা গোপনেই বাগদান সারেন। কারণ মা-বাবাকে রাজি করানোর জন্য সময় চাইছিলেন সুরিয়া। এরপর ‘কাখা কাখা’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। বক্স অফিসে সুপারহিট তকমা পায় এটি। বেশ কয়েকটি রেকর্ডও ভাঙে। অন্যদিকে, সুরিয়া-জ্যোতিকার প্রেমও দিন দিন গভীর হতে থাকে।
২০০৬ সাল, প্রেমের সম্পর্ককে পরের ধাপে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুরিয়া ও জ্যোতিকা। ১০ সেপ্টেম্বর তাদের মেহেদি অনুষ্ঠান হয়। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের পার্ক শেরাটন হোটেলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন এই তারকা জুটি। তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির নামি দামি তারকারা বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেন জ্যোতিকা। এরপর মুম্বাই থেকে চেন্নাইয়ে বসবাস শুরু করেন। ২০০৭ সালে তাদের প্রথম সন্তাদের জন্ম হয়। তারা মেয়ের নাম রাখেন দিয়া। এরপর ২০১০ সালে তাদের ছেলে দেবের জন্ম হয়।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা