দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার দক্ষিণ নয়াপাড়ায় মাদকবিরোধী পুলিশি অভিযানের জেরে এক দম্পতিকে মারধর, গৃহবধূর শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত (২৪ অক্টোবর) বিকালে ভুক্তভোগী প্রশান্ত কুমার কার্তিক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রশান্ত কুমার কার্তিক (২৮) দক্ষিণ নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে তাঁর বাড়ির সংলগ্ন কয়েকজনের বাড়ি থেকে মাদকসহ একজন ক্রেতাকে আটক করে নিয়ে যায়। এর জেরে তাঁকে পুলিশকে খবর দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ২৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে চন্দন রবিদাস, আরতী রানী রবিদাস, পূর্ণিমা রানী ও সন্তোষ রবিদাস লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রশান্তের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা তাঁর স্ত্রী পপি রানীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে তাঁর স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চন্দন রবিদাস তাঁর স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে প্রশান্ত কুমার কার্তিককেও মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর স্ত্রীর কানে থাকা আনুমানিক এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া সোনার কানপাশা খুলে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় রুপেন রবিদাস, মিনারা বেগম ও আমিনা বেগমসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঘটনার আগের দিন একই বিরোধের জেরে তাঁর বাবাকেও মারধর করা হয়েছিল বলে দাবি করেন প্রশান্ত। পরে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী প্রশান্ত কুমার কার্তিক অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তদের একজন চন্দন কুমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়, মারামারি হয়েছে তবে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি মিথ্যা।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান জানায়, এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো: রাফছানজানী শুভ
প্রতিনিধি-
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।