করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে। গত ১ মাস ৬ দিনে উপজেলায় মোট ৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এসব অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।
সর্বশেষ বালিখোলা বাজারে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে মো. মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন দুটি সেমিপাকা মনোহারি দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানঘর দুটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক চার লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে করিমগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
একের পর এক আগুন, তদন্ত কোথায়?
স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে, করিমগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন কবির চলে যাওয়ার পর থেকে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। তবে তাঁর চলে যাওয়ার সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অল্প সময়ের ব্যবধানে এতগুলো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও প্রতিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কীভাবে একের পর এক আগুন লাগছে? প্রতিটি ঘটনাই কি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে ঘটছে, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে? এসব বিষয় যথাযথভাবে তদন্ত করে জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশ করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
ব্যবসায়ীদের দোকানপাট পুড়ে যাওয়ায় অনেকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে রাতের বেলায় অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় তদন্ত, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা এবং বাজারগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
করিমগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মানুষের জানমাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।