মাগুরার শ্রীপুর জোরপূর্বক জমি দখলের প্রতিবাদ করায় ইট ভাটা মালিক ও তাঁর ছেলের হামলায় নারীসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।
রবিবার বিকালে উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চরমহেশপুর গ্রামে অবৈধ ইট ভাটা মালিক জিয়াউল ইসলাম জিয়ার সাথে মোঃ বিপ্লব খাঁনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিপ্লব খাঁনের ছোট ভাই মোঃ উল্লাস খাঁনের বসতবাড়ীতে ডুকে তার স্ত্রী ও তাকে মারধর করে জিয়া শেখ ও তার সহযোগীরা।
এসময় তাদের হাত থেকে আহতদের উদ্ধার করতে গেলে স্বপ্না ও সুমি নামের দুই নারীকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করে জিয়া শেখ ও তার ছেলে মোঃ শামীম শেখ। পরে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। বর্তমানে আহতরা সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
হামলার ঘটনায় অবৈধ ইটভাটা মালিক জিয়ারুল শেখকে প্রধান আসামি করে শামীম শেখ, মোঃ অনিক শেখ, মোঃ জামাল শেখ, জাকির শেখ, মোঃ মামুন মুন্সী ও মোঃ রিয়াজ এর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২৫-৩০ জনের নামে রাতে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।জানা যায় জিয়ারুল ইসলাম জিয়া দারিয়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও তার ছেলে মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক।
হাম়লায় আহত নারী স্বপ্না খাতুন বলেন, বিকালে হঠাৎ তারা এক সঙ্গে অনেক লোকজন নিয়ে এসে আমার দেবর ও তার স্ত্রীকে ঘরে ডুকে মারতে থাকে। আমরা তাদের হাত থেকে দেবরকে বাঁচাতে গেলে আমাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় জিয়ারুল শেখ ও তার ছেলে শামীম। আমরা মেয়ে মানুষ আর রোযা ছিলাম সবাই তবুও তারা আমাদের ছাড়েনি। আমরা এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
ভু্ক্তভোগী মোঃ বিল্পব খাঁন বলেন, মোঃ জিয়ারুল শেখের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করে তার অবৈধ ইট ভাটা পরিচালনা করে আসছে। এর আগে একাধিকবার আমাদের জমি থেকে ইট ভাটার মালামাল সড়িয়ে নিতে বললে আমার পরিবারের উপর তারা একাধিকবার হামলা চালিয়ে আমার ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের আহত করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা ও রয়েছে। সে আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে এখন পর্যন্ত এভাবে হামলা চালাচ্ছে আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত জিয়ারুল শেখের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন মিয়া বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মারামারির ঘটনা সম্পর্কে থানা পুলিশ অবগত রয়েছে।স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে।এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
