সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাশে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের হাউজিং এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাইকালে তিন ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত দুটি ধারালো চাকু ও রিকশাটি উদ্ধার করে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে কালিয়াকৈরের ভাড়াটিয়া অটোরিকশা চালক মো. শাহীন মিয়া (২৮) গত ৩ মার্চ রাতে ইফতার শেষে রিকশা নিয়ে বের হন। রাত আনুমানিক ৮টার সময় সাভারের আকরান বাজার থেকে তিন যুবক ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি এলাকায় যাওয়ার কথা বলে তার রিকশাটি ভাড়া করে।
রিকশাটি বিরুলিয়া ইউনিয়নের দেউন সাকিনস্থ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মহিলা হোস্টেলের পূর্ব পাশে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের হাউজিংয়ের একটি নির্জন ইটের সলিং রাস্তায় পৌঁছালে আসামীরা চালককে থামিয়ে দেয়। এরপর তারা শাহীন মিয়াকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক রিকশা থেকে নামিয়ে দেয় এবং স্কচটেপ দিয়ে তার দুই হাত বেঁধে ফেলে। এসময় তারা চালকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
চালক শাহীন মিয়ার আর্তচিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তিন ছিনতাইকারীকে ঘেরাও করে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এসময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোনের মাধ্যমে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই (নিঃ) আল আমিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
আটককৃত ছিনতাইকারীরা হলেন ১. মো. শাহিনুর ইসলাম (২৮), পিতা- মোঃ সাইফুল ইসলাম (স্থায়ী ঠিকানা: তারগঞ্জ, রংপুর; বর্তমান: টঙ্গাবাড়ী, আশুলিয়া)।২. শ্রী মিট্টু কুমার শীল (২৩), পিতা- নরেন্দ্রনাথ (স্থায়ী ঠিকানা: শেরপুর, বগুড়া; বর্তমান: টঙ্গাবাড়ী, আশুলিয়া)।৩. মো. সজিব (২৭), পিতা- মো. তফিল উদ্দিন (স্থায়ী ঠিকানা: সামাইর, বিরুলিয়া)।
পুলিশের উপস্থিতিতে আসামীদের দেহ তল্লাশি করে আসামী শাহিনুরের প্যান্টের কোমর থেকে ১৩ ইঞ্চি লম্বা একটি কাঠের বাটযুক্ত স্টিলের চাকু এবং মিট্টু কুমারের কাছ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর চালকসহ আহত আসামীদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসা শেষে আজ চালক শাহীন মিয়া বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
