গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই আগ্রাসন শুরুর পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে। এখন পর্যন্ত ইরান একাই ১০টির বেশি দেশের বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মার্কিন সমরাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। তবে তা অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলা অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে। এ হামলা চলাকালীন মার্কিন বাহিনী ঘাটতির মুখে পড়তে পারে—এমন ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ফ্লোরিডার টাম্পায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সদর দপ্তরে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ওয়াশিংটন এ হামলার গতি বজায় রাখতে পারবে না বলে যদি ইরান মনে করে থাকে, তবে তারা ভুল হিসেব করেছে।তিনি বলেন, ইরান আশা করছে যে আমরা এটি চালিয়ে যেতে পারব না, যা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জন্য একটি অত্যন্ত ভুল হিসেব।
তিনি আরও যোগ করেন, আমেরিকান ইচ্ছাশক্তির কোনো ঘাটতি নেই। মার্কিন আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক অস্ত্রের মজুদ এ হামলাকে ‘ততদিন পর্যন্ত চালিয়ে যেতে সক্ষম করবে, যতদিন না মার্কিন লক্ষ্য অর্জিত হয়।
ইরানি সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানের মধ্যেই এ মন্তব্য এল।
হেগসেথ জানান, হামলার শুরুর দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী ‘বিধ্বংসী ও নিখুঁত হামলা’ চালিয়েছে। তার মতে, এসব হামলার কারণে ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ ‘যুদ্ধে অক্ষম’ হয়ে পড়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো অকেজো করা হয়েছে এবং যেসব এলাকায় মার্কিন বাহিনী কাজ করছে সেখানে আকাশসীমায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের সক্ষমতার কথা বলতে গেলে—আমরা কেবল লড়াই শুরু করেছি এবং তা চূড়ান্তভাবে করছি।
তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বর্তমানে যে পরিমাণ যুদ্ধশক্তি প্রয়োগ করতে পারে, তা বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ বেশি।
মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর প্রত্যাখ্যান
ইরান একটি মার্কিন এফ-১৫ ইগল স্ট্রাইক ফাইটার জেট ভূপাতিত করেছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, হেগসেথ তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন তেহরান ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ইরান মিথ্যা, প্রতারণা এবং সংখ্যা ও বাস্তবতাকে বাড়িয়ে প্রচার করার জন্য যা যা করা সম্ভব সবই করছে, যার মূল লক্ষ্য তাদের নিজেদের জনগণের কাছে অপপ্রচার চালানো।
অ্যাডমিরাল কুপার জানান, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ছে এবং ইরানের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের আকাশ আধিপত্য আমাদের ইরানের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে প্রচণ্ড শক্তি ও সক্ষমতা নিয়ে আঘাত করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
কুপারের মতে, গত ৭২ ঘণ্টায় মার্কিন বোমারু বিমানগুলো তেহরানের আশপাশের এলাকাসহ ইরানের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তিনি জানান, মাত্র এক ঘণ্টা আগেই মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানগুলো মাটির নিচে লুকানো ব্যালেস্টিক মিসাইল লঞ্চার লক্ষ্য করে ডজন ডজন ২ হাজার পাউন্ডের পেনিট্রেটর বোমা ফেলেছে।
তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌ-সম্পদগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং এই যুদ্ধে ইরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ডুবিয়ে বা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, হামলার প্রথম দিনের তুলনায় মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৮৩ শতাংশ কমেছে।
পরবর্তী ধাপের লক্ষ্য: ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র
কুপার জানান, হামলার পরবর্তী ধাপ হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা। তিনি বলেন, আমরা কেবল তাদের যা আছে তার ওপরই আঘাত করছি না, বরং তাদের পুনরায় তৈরি করার সক্ষমতাও ধ্বংস করছি।
এই প্রচেষ্টা সফল হতে ‘কিছুটা সময় লাগবে’ উল্লেখ করে তিনি জানান যে, হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনী ‘পর্যাপ্ত সরবরাহ’ বজায় রেখেছে
