শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইরানে হামলার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে ট্রাম্পকে

ইরানে হামলার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে ট্রাম্পকে

ইরানে হামলার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে ট্রাম্পকে


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিদেশে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেন, তখন তার ধারণা ছিল যে আমেরিকান সেনাদের প্রাণহানি খুবই কম হবে এবং অর্থনীতিতেও তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই ধারণা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এখন পর্যন্ত ছয়জন আমেরিকান সেনা নিহত হয়েছেন এবং পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা হচ্ছে। শেয়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চিন্তিত।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগন প্রতিদিন কয়েকশ মিলিয়ন ডলার খরচ করছে। ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৭৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

এখনও ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো হয়নি, তবে প্রশাসন সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করেনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, এই সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হবে না। তারা অভিযান ধীর করছেন না, বরং তা ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। নতুন বোমারু বিমানও সেখানে পাঠানোর কথা জানান তিনি।

শনিবার থেকে শুরু হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসন আত্মবিশ্বাসী ছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল দ্রুত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো এবং ইয়েমেন বা সোমালিয়ায় নিখুঁত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো। ট্রাম্প এসব অভিযানকে সফল এবং সাশ্রয়ী বলে মনে করতেন।

তবে কলোরাডোর ডেমোক্রেট প্রতিনিধি এবং সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো বলেন, ট্রাম্প যেভাবে ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই একই পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, ‘ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় এবং হাজার হাজার প্রাণহানির ২৫ বছর পর আমরা আবারও সেই একই সঙ্কটে পড়ছি।’

ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ফেলো জন হফম্যান বলেন, মাদুরো ইস্যুর পর ট্রাম্প নিজেকে ‘অজেয়’ ভাবতে শুরু করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প কম খরচে বড় জয় পছন্দ করেন, কিন্তু ইরান এবং ভেনেজুয়েলা এক নয়। ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং এটি শুধু শুরু।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো এলিয়ট আব্রামস মনে করেন, ৪০ বছর ধরে আমেরিকানদের লক্ষ্যবস্তু বানানো ইরানি শাসনের সামরিক শক্তি ভেঙে দেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের জন্য লাভজনক হবে। তবে হফম্যানের মতে, ইরানকে অস্থিতিশীল করা মানে পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, যেখানে শরণার্থী সংকট এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠী আইসিস আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্প ইরানি জনগণকে তাদের দেশ ‘দখল’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে হোয়াইট হাউস এখনও নিশ্চিত করেনি যে তারা সেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরাসরি সহায়তা দেবে কি না।