চার দেয়ালের ভেতরেও ঈদের খুশি, সেই আনন্দ থেকে বাদ যাননি চার দেয়ালের ভেতরে থাকা মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের কারাবন্দিরা।বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮ টায় কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারাবন্দিদের পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্বরত কারারক্ষীরাও অংশ নেন। নামাজ শেষে বন্দিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঈদের বিশেষ খাবার। সকালের নাস্তা হিসেবে ছিল মুড়ি ও পায়েস।মৌলভীবাজার কারাগারের জেল সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, বন্দিরা যাতে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্যই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। তারা নামাজ আদায় করেছেন, একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেছেন।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কারাগারে আসেন বন্দিদের স্বজনরাও। প্রায় শতাধিক স্বজনকে সেমাই, মুড়ি ও বাচ্চাদের চকলেট দিয়ে বরণ করে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। বন্দিদের জন্য দুপুরের খাবারে রাখা হয়েছে পোলাও, গরুর রেজালা, এ ছাড়া যারা গরুর মাংস খান না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ, কোমল পানীয় ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।
এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম জানান কারাগার সরকারের একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মাননীয় কারা মহাপরিদর্শক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে আটক বন্দিদের জন্য ঈদের বিশেষ খাবারের আয়োজন, জামাতে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি বন্দির জন্য একবার করে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাত, সরকারী মোবাইলে কথা বলা, বাড়ি হতে রান্না করা খাবার খাওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
আমরা বিশ্বাস করি, মানবিক আচরণ, সহমর্মিতা ও ইতিবাচক পরিবেশ একজন মানুষকে সংশোধন হয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারাগার শুধু শাস্তির স্থান নয়, বরং সংশোধন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে ৬৬৩ জন বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিন কারাগারে বন্দি ও তাদের সহিত সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ খবর নিতে পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
ইকবাল হোসেন রিংকু |