প্রবাসী সংগীতশিল্পী জয়া বর্মন। থাকেন প্যারিসে। নরসিংদীর মেয়ে। মাত্র আট বছর বয়সে পরিবারের হাত ধরে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিন। নিয়েছেন সংগীতে তালিম। প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী নীলিমা সেন গীতার সান্নিধ্যে এসে তার গায়িকীতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। গুরু নীলিমা শুধু শাস্ত্রীয় সংগীতের গন্ডিতেই জয়াকে আটকে রাখেননি, বরং তার হাতে তুলে দিয়েছেন বাংলা লোকসংগীতের অপার রত্নভান্ডার। আর এ কারণেই নীলিমা সেনের প্রভাব তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সিলেটের রাধারমণ দত্ত আর শাহ আবদুল করিমের দেহতত্ত্ব ও মরমি সুর জয়াকে চিনিয়েছে নিজের আত্মা। তার বিশ্বাস, লোকগান শুধুই সংগীতের একটি ধারা নয়; এটি বাংলার মানুষের জীবন, দর্শন, ইতিহাস ও সংস্কৃতির চিরন্তন এক প্রতিচ্ছবি। এ ছাড়া পণ্ডিত শ্যামসুন্দর গোস্বামী ও প্রিয়ঙ্কা মৈত্রীর সান্নিধ্য তার সুরজ্ঞানের ঝুলিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। সম্প্রতি দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরেছেন জয়া। গেয়েছেন নতুন একটি দ্বৈত গান, যেখানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী সমরজিৎ রায়ের সঙ্গে। জয়া জানান, বিদেশের কৃত্রিম ও নির্দিষ্ট গন্ডির স্টেজ পারফরম্যান্সের চেয়ে বাংলাদেশের সুরের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যই জয়াকে সবচেয়ে বেশি টানে। কারণ এ দেশের মাটির গানেই রয়েছে একজন শিল্পীকে আত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করার আসল জাদু।
