ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে গাজীপুর সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পার্কজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজারো মানুষ ভিড় করেন বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিশেষ করে কোর সাফারি এলাকায় নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের ছুটিকে ঘিরে এবার দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা পার্কে প্রবেশ করেন। এদিন টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার। আর ঈদের প্রথম তিন দিনে ৫০ টাকা মূল্যের টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
শনিবার দুপুরে পার্ক ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। নির্মল সবুজ পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর সমারোহ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে সবচেয়ে বেশি।
দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ কোর সাফারি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ বাসে করে সেখানে ঘুরে দেখা যায় উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণরত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আফ্রিকান সিংহ, ভাল্লুক, জিরাফ, জেব্রা, ওয়াইল্ডবিস্ট, গয়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ। পথের ধারে চোখে পড়ে বন্য বানরের দল। এছাড়া সাফারি কিংডমে রয়েছে দেশি-বিদেশি পাখি, ম্যাকাও, ময়ূর অ্যাভিয়ারি, প্রজাপতি পার্ক, ফিশ অ্যাকুয়ারিয়াম, হাতি, ইমু, শকুন, পেঁচা, জলহস্তী, কুমির ও বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ।
পার্কে ঘুরতে আসা পোশাকশ্রমিক আতিক বলেন, “ঈদে বাড়ি যাওয়া হয়নি। তাই স্ত্রীকে নিয়ে সাফারি পার্কে এসেছি। খুব কাছ থেকে বাঘ, সিংহ ও ভাল্লুক দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ।”
সিডস্টোর এলাকা থেকে আসা কলেজছাত্রী মারিয়া বলেন, “প্রাকৃতিক পরিবেশে এতগুলো বিরল ও বন্য প্রাণী একসঙ্গে দেখার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। তাই সাফারি পার্কে আসাটা সবসময়ই আনন্দের।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, “প্রতিটি উৎসবেই এখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও সচল থাকে। এবারও ঈদের ছুটিতে ব্যাপক দর্শনার্থী এসেছে।”
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বলেন, “ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেই দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য চাপ দেখা গেছে। নিরাপত্তা ও সেবার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য ঈদের দিন বিকেলেও পার্ক খোলা রাখা হয়েছিল। ঈদের ছুটিজুড়ে পার্ক খোলা থাকবে।”
ঈদের অবকাশে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গাজীপুর সাফারি পার্ক। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর অনন্য সমন্বয়ে এটি এখন রাজধানীর আশপাশের মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি