সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বওড়া গ্রামে সংঘটিত প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনায় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে বেলকুচি থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ দিবাগত রাতে বওড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহরিয়ার রাজিব (৩৮)-এর বাড়িতে কৌশলে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা।
তারা ঘরের টাংয়ের তালা ভেঙে আনুমানিক ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শাহরিয়ার রাজিব বেলকুচি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে বেলকুচি থানার এফআইআর নং-৫, তারিখ: ০৩ মে ২০২৬ মূলে একটি চুরির মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— রবি আলম (৪৫), পিতা: মৃত মজিবর খাঁ, সাং- তামাই রয়নপাড়া, থানা- বেলকুচি, জেলা- সিরাজগঞ্জ। তাকে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার খেজুরটেক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আরিফুল ইসলাম (৩০), পিতা: আব্দুস সামাদ মৃধা, সাং- কাদিম মালকি, থানা- আমিনপুর, জেলা- পাবনা। তাকে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার তালতলী বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ইয়ামিন (২০), পিতা: বাবু মোল্লা, সাং- কাজিপুরা উত্তরপাড়া, থানা- কামারখন্দ, জেলা- সিরাজগঞ্জ এবং মোছা. রুপা (২০), স্বামী: মো. রেজাউল মণ্ডল, পিতা: বাবু মোল্লা, মাতা: চায়না বেগম, সাং- কাজিপুরা, থানা- কামারখন্দ, জেলা- সিরাজগঞ্জ। তাদের সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার দিন চরসিকার গ্রাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া নূর মোহাম্মদ, পিতা: হাসেন আলী, সাং- এনায়েতপুর উত্তরপাড়া—তাকেও মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমাম জাফর বলেন, "গত ৩০ এপ্রিল এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাই। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত আছে।"
স্থানীয়দের মতে, চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। অপরাধ দমনে বেলকুচি থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আল-আমিন হোসেন, (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
