সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা নদীতে চাঁদা দাবি, হামলা, নগদ অর্থ ছিনতাই এবং প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের চারটি স্টিল বডির নৌকা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ তুলেছেন এক বালু ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলকৃত নৌকা উদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বালু-পাথর ব্যবসায়ী মো. খোকন মিয়া (২৪)।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২ আগস্ট (রোববার) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামসংলগ্ন সোনালী চেলা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
খোকন মিয়ার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিধি অনুসারে রয়্যালটি পরিশোধ করে বৈধভাবে চেলা নদী থেকে বালু ক্রয়-বিক্রয় করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে। ঘটনার দিন তিনি সহযোগীদের নিয়ে নদীতে বালু ক্রয়ের কাজে গেলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ও সহযোগীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, হামলায় তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন আহত হন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর মালিকানাধীন চারটি স্টিল বডির নৌকা জোরপূর্বক দখল করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। নৌকাগুলোর আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ২০ লাখ, ২৭ লাখ, ৪০ লাখ ও ২৬ লাখ টাকা, যার মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
খোকন মিয়ার অভিযোগ, ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে অভিযুক্তরা মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় তিনি দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ছিনিয়ে নেওয়া অর্থ ও দখলকৃত চারটি নৌকা উদ্ধার এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
