পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিসি, এসপি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এক আঞ্চলিক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। সে দাবি করে, ওই ব্যবসায়ীর ওষুধ সেবন করে একজন শিশু মারা গেছে এবং মামলা এড়াতে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। ভয়ভীতি ও মামলার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী প্রতারকের নগদ নম্বরে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন।
এদিকে একই ব্যক্তি গত ৩০ মে নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন ও মেসেজ করে। সে অভিযোগ তোলে যে, তার দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে এবং মামলা থেকে রেহাই পেতে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেয়।
এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নজরে এলে তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখাকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ডিবির একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বগুড়ার আদমদীঘী উপজেলার নামা পোওতা গ্রামের মো. নাইম হোসেন (২৮)-কে সান্তাহার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন, ৩টি সক্রিয় সিমসহ বিভিন্ন কোম্পানির মোট ৩৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নাইম হোসেন স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনো পুলিশ সুপার, কখনো ওসি, কখনো জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং কখনো রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নওগাঁ পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি ফোনে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করলে বিষয়টি যাচাই না করে টাকা লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁ প্রতিনিধি:
