মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শ্রীপুরে নদী থেকে হাত-পা বাঁধা যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

শ্রীপুরে নদী থেকে হাত-পা বাঁধা যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

শ্রীপুরে নদী থেকে হাত-পা বাঁধা যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল শেখবাড়ী ঘাট সংলগ্ন মাটিকাটা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নাঈম (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত নাঈম বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কাঁচামালের ব্যবসার পাশাপাশি বাড়ির পাশে একটি মাছের প্রকল্প পরিচালনা করতেন।
নিহতের খালাতো ভাই রিয়াজ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে নাঈম মাছের প্রকল্পে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন বুধবার সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৬৩) করা হয়।
 

পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর বুধবার রাতে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, নাঈম অজ্ঞান অবস্থায় ভৈরব সড়কের পাশে পড়ে আছেন। পরে ফোনদাতার নির্দেশে নাঈমকে উদ্ধারের জন্য ৮ হাজার টাকা পাঠানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে, মাটিকাটা নদীতে একটি মরদেহ ভাসছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা নাঈমের মরদেহ শনাক্ত করেন। এ সময় তার হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে দাবি করেন স্বজনরা।
 

নিহতের দুলাভাই জানান, মাছের প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে নাঈমের বিরোধ চলছিল। পরিবারের ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নিহতের আরেক খালাতো ভাই জুয়েল রানা বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে স্থানীয় কয়েকজন নাঈমকে ধরে নিয়ে মারধর করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের বিরোধ চলছিল।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রতম মিয়া বলেন, “বরমী ইউনিয়নে দুই দিনের ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
 

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য জানান, সকালে নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখার খবর পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, “স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এলাকায় দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।”
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (এসআই) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।”


শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: