শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যে ওষুধ গ্রহণ করে ক্যানসার নিয়েও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষ

যে ওষুধ গ্রহণ করে ক্যানসার নিয়েও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষ

যে ওষুধ গ্রহণ করে ক্যানসার নিয়েও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষ

 নিউজ ডেস্ক : 

ক্যানসার চিকিৎসায় লক্ষ্যভিত্তিক (টার্গেটেড) ওষুধের অগ্রগতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমশ বাড়ছে দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যা। বিজ্ঞানীরা ক্যানসারের জৈবিক কারণ ও জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারায় নতুন নতুন ওষুধ উদ্ভাবিত হচ্ছে, যা রোগীদের জীবন দীর্ঘায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বর্তমানে ৬৭ বছর বয়সি ক্যাথি স্মিথউইক দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে স্তন ক্যানসার ও পরবর্তীতে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। টার্গেটেড ওষুধ, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কাজে লাগানো চিকিৎসা, কেমোথেরাপি এবং হরমোনভিত্তিক ওষুধের সহায়তায় তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

অন্যদিকে ৫৯ বছর বয়সি মিশেল ভাক্কা প্রায় ১০ বছর ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের মাধ্যমে সুস্থভাবে জীবন কাটাচ্ছেন। ওষুধটি তার টিউমারের বিরল জিনগত পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন বা কোনো সময় ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন—এমন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ জীবিত রয়েছেন।

সংস্থাটির তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি ১০ জন ক্যানসার রোগীর মধ্যে ৭ জন অন্তত পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে থাকছেন। ১৯৭০-এর দশকে এই হার ছিল অর্ধেকেরও কম। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ক্যানসার কোষকে নির্দিষ্টভাবে আক্রমণকারী ওষুধের আবির্ভাবের পর বেঁচে থাকার হার দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

ক্যানসার গবেষণা বিভাগের প্রধান রেবেকা সিগেল বলেন, ক্যানসারের জীববিজ্ঞান বুঝতে আমাদের কয়েক দশক সময় লেগেছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে ভবিষ্যতে রোগীদের বেঁচে থাকার হার আরও বাড়বে বলে আশা করছি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির সম্মেলনে উপস্থাপিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি মানুষের মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুর হার ২৫ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে অগ্ন্যাশয়, ত্বক ও রক্তের ক্যানসারের জন্য নতুন জীবনবর্ধক ওষুধের পরীক্ষার ইতিবাচক ফলও তুলে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোষের ডিএনএতে পরিবর্তনের কারণে ক্যানসার সৃষ্টি হয়। ধূমপান, অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ বা বংশগত কারণেও এসব পরিবর্তন ঘটতে পারে। বর্তমানে রোগীর টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা ওষুধের সফলতার হারও বৃদ্ধি করছে।

ক্যানসার গবেষণা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সিটি অব হোপের অগ্ন্যাশয় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. ভিনসেন্ট চুং বলেন, নতুন প্রজন্মের লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ রোগীদের প্রচলিত চিকিৎসার প্রতি তৈরি হওয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করছে। ফলে অনেক রোগী দীর্ঘদিন ক্যানসার নিয়েই জীবনযাপন করতে পারছেন।

ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাওয়া ক্যাথি স্মিথউইক জানান, তিনি এখনও ভ্রমণ করছেন এবং স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করছেন। একইভাবে মিশেল ভাক্কাও বলেন, তার বর্তমান চিকিৎসায় তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং তিনি নিয়মিত ভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে প্রতিটি ক্যানসার রোগীর পূর্ণাঙ্গ জিনগত প্রোফাইল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হবে, যা ক্যানসার মোকাবিলায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।