গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। জমিজমা বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্য নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বরমী ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধগুলোর কার্যকর সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নিয়েছে।
জানা যায়,প্রথম ঘটনায় পাইটালবাড়ী এলাকায় জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়ে আজিজুল ইসলাম নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে বরনল গ্রামের যুবক নাঈম মাছের প্রকল্পে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে দুই দিন পর তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয় মাটিকাটা নদী থেকে। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বিরোধই সহিংসতার মূল কারণ”
বরমী বাজারের ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, “একই ইউনিয়নে দুই দিনের মধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জমিজমা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় আধিপত্য সব মিলিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে।”
পাইটালবাড়ী গ্রামের তারিকুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের নৃশংস ঘটনা আগে কমই দেখা গেছে। এখন মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
বরকুল গ্রামের সজীব বলেন, “নাঈমের মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো এলাকা আতঙ্কিত। সবাই দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার চায়।”
পরিবারগুলোর অভিযোগ ও দাবি
নিহত আজিজুল ও নাঈমের পরিবার পৃথকভাবে দাবি করেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের স্বজনদের হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আজিজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
অন্যদিকে নাঈম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রাপ্ত তথ্য ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধ, পারিবারিক শত্রুতা এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব এসব সমস্যা সময়মতো সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
তাদের মতে, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, নিয়মিত পুলিশি নজরদারি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডে বরমী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি,ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বরমীতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “দুটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
