সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে এক স্কুলছাত্রকে মারধর করে আহত করা এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর (গণেশপুর) গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ নাজমুল হাসান জুয়েল এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের দিঘলী চাকলপাড়া এলাকার রেদওয়ান (২৩) এবং তার সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছাতক টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত ফাহিম সিএনজি অটোরিকশাযোগে ছাতক থেকে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে পৌঁছান। সেখানে তিনি তার বড় ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত রেদওয়ান তার কাছে এসে বাড়ি কোথায় জানতে চান। ফাহিম নিজেকে ছাতকের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেদওয়ান ও তার সহযোগী তাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ফাহিমকে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। একপর্যায়ে তার মাথা পাশের একটি পাকা দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে জখম করা হয়। এছাড়া ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে অভিযুক্তরা ফাহিমের সঙ্গে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা বলেন, “একজন নবম শ্রেণির ছাত্রকে প্রকাশ্যে শুধু বাড়ির পরিচয় দেওয়ার কারণে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই জাহাঙ্গীরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
