রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ আসলে কেন হলো

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ আসলে কেন হলো

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ আসলে কেন হলো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটিতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তা হলো গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা চালানোর যে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটিই এই স্মারকে তুলে ধরা হয়েছে।

ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে বহু বেসামরিক নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কৌশলগতভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছে। আর যে শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য এই অভিযান চালানো হয়েছিল, সেই তেহরানের সরকার শুধু টিকেই যায়নি, বরং আগের চেয়ে আরও শক্ত অবস্থানে চলে গেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের চাপ

বিশ্বের তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় ট্রাম্পকে বড় ছাড় দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। এতে আমেরিকার ইরানবিরোধী কট্টর মহল এবং ইসরায়েলের সরকার দুই পক্ষই ক্ষুব্ধ হয়েছে। সমঝোতায় লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল তাতে রাজি নয়। তারা লেবাননে পূর্ণ সামরিক স্বাধীনতা চায়।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের চাপ

বিশ্বের তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় ট্রাম্পকে বড় ছাড় দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। এতে আমেরিকার ইরানবিরোধী কট্টর মহল এবং ইসরায়েলের সরকার দুই পক্ষই ক্ষুব্ধ হয়েছে। সমঝোতায় লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল তাতে রাজি নয়। তারা লেবাননে পূর্ণ সামরিক স্বাধীনতা চায়।

ভুল হিসাবের খেসারত

ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, এটা ইরানেরে  জনগণের জন্য প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ। নেতানিয়াহু বাইবেলের ভাষায় বলেছিলেন, এবার সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি শেষ করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই সেটা পারেনি।

ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত ও কঠোর হলেও, এটি ধর্মীয় আদর্শ, জাতীয়তাবাদ ও টিকে থাকার দৃঢ় ইচ্ছার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৮০-এর দশকের ইরাক-ইরান যুদ্ধ থেকেই এই ব্যবস্থা এ ধরনের আঘাত সামলানোর জন্য তৈরি হয়েছে।

এখন কী অপেক্ষা করছে

এই সমঝোতা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। এটা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতে ৬০ দিনের আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে। আলোচনা সফল হলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হতে পারে। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার বড় অভাব রয়েছে। উভয় দেশের কট্টরপন্থীরা এই প্রক্রিয়া ভেঙে দিতে চাইবে।

তবু হাজারো প্রাণহানি আর বিশ্ব অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তার তুলনায় এই সমঝোতা অনেক ভালো। এখন দেখতে হবে আলোচনায় দুই পক্ষ কতটা বাস্তববাদী আচরণ করে।

যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরতে এত রক্ত আর ক্ষতির দরকার ছিল কি? এই প্রশ্নটা হয়তো অনেকদিন ঘুরে ফিরে আসবে।