রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নদীভাঙনের আতঙ্ক পেরিয়ে পর্যটনের নতুন ঠিকানা: পানপট্টির ‘মিনি কুয়াকাটা

নদীভাঙনের আতঙ্ক পেরিয়ে পর্যটনের নতুন ঠিকানা: পানপট্টির ‘মিনি কুয়াকাটা

নদীভাঙনের আতঙ্ক পেরিয়ে পর্যটনের নতুন ঠিকানা: পানপট্টির ‘মিনি কুয়াকাটা

এক সময় নদীভাঙনের তীব্র কবলে পড়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় ছিল পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা। প্রতিনিয়ত নদীর স্রোতে ভাঙছিল তীর, আতঙ্কে দিন কাটাতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ভাঙনকবলিত এলাকাই আজ রূপ নিয়েছে এক মনোরম পর্যটন কেন্দ্রে। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন পরিচিত ‘মিনি কুয়াকাটা’ নামে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে এলাকাটিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়। পাশাপাশি নদীর তীরজুড়ে গড়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ। ফলে প্রতিদিন বিকেল হলেই এখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা।

নদীর বিশাল জলরাশি, শীতল বাতাস, সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন মানুষ। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে বদলে গেছে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্রও। নদীতীরজুড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ও স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ছোট ছোট অস্থায়ী টংঘরে চা, কফি, চটপটি, ফুচকা, ঝাল মুড়ি ও আচার; কেউ পরিচালনা করছেন ফাস্টফুড কিংবা বিরিয়ানির দোকান। এছাড়াও রয়েছে নানা মুখরোচক খাবারের স্টল, শিশুদের বিনোদনের নানা আয়োজন ও নদী পারে নৌকায় ঘোড়ার ব্যবস্থা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপ্পি হাওলাদার জানান, আগে যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল সীমিত, সেখানে এখন পর্যটকদের কারণে তাদের আয়ের নতুন পথ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনের বিক্রিতে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি অনেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা গ্রাম ডাক্তার মিজানুর রহমান মাস্টার বলেন, “এক সময় এই এলাকাটি নদীভাঙনের কারণে আতঙ্কের নাম ছিল। এখন বিকেলে এখানে মানুষের ঢল নামে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসে। এতে এলাকার পরিচিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।”

সচেতন মহলের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে পানপট্টির এই ‘মিনি কুয়াকাটা’কে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। প্রয়োজন পর্যটকদের জন্য বসার স্থান, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ।

নদীভাঙনের ক্ষতচিহ্ন মুছে আজ পানপট্টি ইউনিয়নের এই নদীতীর হয়ে উঠেছে সৌন্দর্য, বিনোদন ও জীবিকার এক অনন্য সমন্বয়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই মানুষ ছুটে আসছেন এখানে, আর সেই সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার গল্প লিখছে পানপট্টির ‘মিনি কুয়াকাটা’।#


মোঃ রাকিবুল হাসান
গলাচিপা, পটুয়াখালী।