গাজীপুরের শ্রীপুরে রাজনৈতিক পরিচয় বিভ্রাটের জেরে এক ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগ নেতা ভেবে গ্রেপ্তার এবং দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা পর থানা হাজত থেকে নাটকীয় মুক্তির ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২১ জুন) শ্রীপুর পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রামের বাসিন্দা হাজী লোকমান হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তবে বিএনপি নেতাদের তৎপরতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) নির্দেশনায় পরদিন সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোদ বিএনপির ভেতরেই ‘আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন’ ও ‘দলবদল’ নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শ্রীপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ। সে সময় তথ্যগত বিভ্রান্তির কারণে ৫ নং ওয়ার্ড থেকে হাজী লোকমান হোসেনকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়।
এই বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান,"পুলিশের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই লোকমান নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। তবে সকালে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা থানায় এসে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে দাবি করেন তিনি বিএনপির ত্যাগী নেতা। পরবর্তীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা এবং স্থানীয় এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।"
হাজী লোকমান হোসেনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি
মোতালেব হোসেন বলেন, "লোকমান সাহেব আমাদের বিএনপির একজন প্রবীণ ও ত্যাগী কর্মী। মাঝখানে আওয়ামী লীগের কিছু লোক উনার অজান্তেই একটি কমিটির মধ্যে সহ-সভাপতি হিসেবে উনার নাম দিয়ে দেয়। তিনি অতীতেও বিএনপি করতেন এবং গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমাদের কেন্দ্র কমিটির হয়ে কাজ করেছেন। একটি কুচক্রী মহল তাকে বিপদে ফেলতে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।"
একই সুরে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব খাইরুল কবীর মন্ডল আজাদ বলেন, "লোকমান ভাইয়ের নাম আওয়ামী লীগের লিস্টে দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, তবে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি বর্তমান এমপি মহোদয়ের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ৫ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্র কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।"
মুক্তির পর হাজী লোকমান হোসেনও নিজেকে বিএনপির সমর্থক দাবি করে বলেন, তিনি বরাবরই মোতালেব সাহেবের পক্ষে রাজনীতি ও ভোট দিয়ে এসেছেন।
বিএনপি নেতারা একে ‘ভুল তথ্য’ বা ‘ষড়যন্ত্র’ বললেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ২০২৩ সালের শ্রীপুর পৌর আওয়ামী লীগের ৫ নং ওয়ার্ড কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রাম কমিটির একটি অনুমোদিত তালিকা ভাইরাল হয়েছে, যেখানে হাজী লোকমান হোসেনের নাম ‘সহ-সভাপতি’ হিসেবে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয়ের সাথে তার ছবি সম্বলিত ব্যানারও ছড়িয়ে পড়েছে।
শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি:
