চেয়েছিলেন দীর্ঘদিন বাঁচতে। বিশ্বাস করতেন অন্তত ১৫০ বছর বাঁচবেন। এবং আর তার জন্য তৈরি করেছিলেন এক বিশেষ অক্সিজেন চেম্বার। অক্সিজেন চেম্বারে ঘুমানোর পর নিজেকে অনেক ফ্রেশ অনুভব করতেন। জেগে উঠতেন সম্পূর্ণ এক নতুন মানুষ হয়ে। ভাবতেন ‘আমি এমন এক পৃথিবী দেখতে চাই যেখানে থাকবে শান্তি, থাকবে না কোনো ক্ষুধা, যে দুনিয়ায় শিশুদের কোনো কষ্ট থাকবে না।"
ইনি হলেন 'মাইকেল জ্যাকসন' পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত শিল্পী। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার নামটি ২৩ বার লেখা হয়। ৪০টি বিলবোর্ড অ্যাওয়ার্ড-সহ ১৩ বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন তিনি। এছাড়াও ২৬টি আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডও তার ঝুলিতে জমা হয়েছিল। জীবিত কিংবা মৃত কোনো শিল্পীই আজও তার পুরস্কারের তালিকাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। এমন কি, মৃত্যুর পরও মৃত অবস্থায় সবচেয়ে বেশি অর্থ আয়ের রেকর্ডটিও গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পায়।
১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যের গ্যারি শহরে এক গরিব পরিবারে তার জন্ম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের সঙ্গে একটি কৃষ্ণাঙ্গ এলাকায় বড় হন। সংগীতজীবনে প্রবেশ করেন ১৯৬৩ সালে, মাত্র ৫ বছর বয়সে। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে এককভাবে তার ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু করৈন এবং একের পর এক হিট অ্যালবাম দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান তিনি।
১৯৮৪ সালে পেপসির অ্যাড করার সময় তার চুলে আগুন ধরে যায়। এতে তার মাথার চামড়া এবং মুখমন্ড ৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার পর থেকেই তিনি পরচুলা ব্যবহার করতেন এবং সে সময় থেকেই মূলত প্লাস্টিক সার্জারির দিকে তিনি ঝুঁকে পড়েন।
১৯৯৪ সালে পপ সম্রাট বিয়ে করেন এলভিস প্রিসলির কন্যা লিসা মারি প্রিসলিকে। যদিও এই বিয়েটি মাত্র ২০ মাস টিকেছিল।
খ্যাতি আর টাকা কোনোটারই অভাব ছিল না এই পপসম্রাটের। তাই হয়তো অমর হতে চেয়েছিলেন তিনি। করতে চেয়েছিলেন নিজের ক্লোন। খরচ করেন লাখ লাখ ডলার। মাইকেল জ্যাকসনের জীবনী লেখক সি ল্যাকম্যান এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।
রহস্যেঘেরা জীবনের মতোই তার মৃত্যুও ছিল যথেষ্ট রহস্যময়। ১৫০ বছর বাঁচতে চাইলেও মাত্র ৫০ বছর বয়সেই মারা যান থ্রিলার খ্যাত এই পপ তারকা। দিনটি ছিল ২০০৯ সালের ২৫ জুন। কয়েকটি ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত বা ভুল প্রয়োগে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যুর জন্য তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক কনরাড মারকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
পপস্টারের মৃত্যুর জন্য অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও তার গাফিলতিই দায়ী বলে আদালত রায় দেয়। হয় চার বছরের কারাদণ্ড। যদিও মারের আইনজীবীরা দাবি করেন, জ্যাকসন স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত মাত্রায় ওই ওষুধটি নিয়েছিলেন।
কিং অব পপ মাইকেল জ্যাকসন। একাধারে ছিলেন একজন সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী ও সমাজসেবক। পুরো নাম মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন।
আজ ২৫ জুন তার প্রয়ান দিবস।
মারা যাওয়ার ১৫ বছর পরে আজও মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।