শুধুমাত্র অভিনয় করবেন বলে তিনি 'এম বি বি এস' পাশ করে চিকিৎসক হয়েও, ডাক্তারির মত সম্ভ্রান্ত পেশা অবলীলায় ছেড়ে অভিনয় জগতের অজানা ভবিষ্যতের দিকে ঝুঁকেছিলেন অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়।
ছাত্র হিসেবে মেধাবী ছিলেন, মননে ছিল সাহিত্যপ্রীতি৷ ঠাকুরদা ডাক্তার, বাবার ইচ্ছা ছেলে যেন ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করে৷ বাবার ইচ্ছাপূরণ করেছিলেন৷ ১৯৬০ সালে এম বি বিএস পাশ করে প্রথমে সিভিল ডিফেন্সে তারপর কলকাতা পুরসভার হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ৷ শিশির ভাদুড়ীর ‘মাইকেল মধুসূদন’ নাটক দেখে অভিনয়কে পেশা করার ইচ্ছা প্রবল ভাবে সঞ্চারিত হয়েছিল হৃদয়ে৷ অবশ্য ডাক্তারি পড়ার সময়ে যোগ দিয়েছিলেন আইপিটিএ-তে৷ সেই মঞ্চেই মৃণাল সেনের মত প্রবাদপ্রতিম চিত্র পরিচালকের নজরে পড়লেন৷
মৃণাল সেনের 'আকাশকুসুম' ছবিতে অভিনয় জগতে হাতেখড়ি হওয়ার পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি৷
তাঁর অভিনয় ভালো লেগেছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতিম চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের৷ সুযোগ পেলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে সত্যজিৎ রায়ের ‘চিড়িয়াখানা’ ছবিতে।
সত্যজিৎ রায় পরিচালিত 'গণশত্রু' ছবিতে সাহসী সাংবাদিকের ভূমিকায় বীরেশের চরিত্রে শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের অনবদ্য অভিনয় আজও মানুষের স্মৃতিতে এতটুকু মরচে ধরেনি৷
অভিনেতা-ডাক্তার শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা,সেই মানুষটি দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায় জীবন বাঁচিয়ে দেওয়া সেই ডাক্তারবাবুর অপেক্ষায়, হাতে ছাগলের দুধ৷ তিনি সুস্থ হয়েছেন,ডাক্তারবাবুকে পারিশ্রমিক দেওয়ার সামর্থ্য নেই, কিন্তু কিছু দিতেই হবে৷ নিজের সামর্থ্যের ছাগলের দুধ নিয়ে রাস্তায় প্রতীক্ষার পরে শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে সেই দুধ দিলে তিনি খেয়েছিলেন সানন্দে৷
পেশাদার নাট্য শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন ‘কালবৈশাখী’, ‘অমরকণ্টক’, ‘বধূবরণ’-এর মতো নাটকে৷ ছোট পর্দাতেও সাবলীল অভিনয়ের নিদর্শন রেখে গিয়েছেন৷
অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।