আজ শ্রীকান্ত আচার্য, ওপার বাংলার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, ছিলেন পুরোদস্তুর চাকরিজীবী।
বাংলা আধুনিক গানের ভুবনে এক নির্ভরতার নাম — শ্রীকান্ত আচার্য। ওপার বাংলার এই প্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে যুগপৎ পাওয়া যায় শ্রুতিমধুরতা, আবেগ আর নিখুঁত আবৃত্তির মতো নিখুঁরতা। নব্বই দশকে পেশাদার সংগীত জীবনের সূচনা হলেও, গানে তাঁর আসক্তি জন্মেছে আরও অনেক আগে।
শ্রীকান্ত আচার্য তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেন দক্ষিণ কলকাতার খ্যাতনামা South Point High School-এ। এরপর তিনি স্নাতক ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন আশুতোষ কলেজে, যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত।
তাঁর পেশাগত পরিচয়—গায়ক, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক—এই পরিচয়ের সঙ্গে তাঁর একাডেমিক শিক্ষার কোনো সরাসরি সংযোগ ছিল না। সংগীত ছিল তাঁর আত্মার খোরাক, একান্ত নিজস্ব ভালোবাসা। সংগীতে তাঁর প্রাথমিক তালিম শুরু হয় সংগীতশিল্পী বিশ্বজিত রায়ের অধীনে। পরে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম গ্রহণ করেন পণ্ডিত আশুতোষ ভট্টাচার্য ও ওস্তাদ আলি আহমেদ খানের কাছে।
অভিনব ব্যাপার হলো — শ্রীকান্ত কোনো সঙ্গীত পরিবারে বড় হননি। তাঁর নিজের কথায়, পরিবারে সঙ্গীত বা সংস্কৃতির চর্চা ছিল না বললেই চলে। তবু গানকে তিনি ভালোবেসেছেন প্রাণভরে, নিজের মতো করে, গোপনে। কিন্তু মধ্যবিত্ত বাস্তবতায় বেছে নিতে হয়েছিল চাকরিজীবনের পথ। সংগীত যেন দূরে সরে যাচ্ছিল— আর ঠিক সেই সময়েই এক তীব্র আত্ম উপলব্ধি থেকে তিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নেন: চাকরি ছেড়ে দেন, ফিরতে চান গানেই। পাশে এসে দাঁড়ান এক শুভাকাঙ্ক্ষী।
এরপরই জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায়— সাগরিকা রেকর্ড কোম্পানি থেকে প্রকাশ পায় তাঁর প্রথম দুই অ্যালবাম: একটি আধুনিক গান, অপরটি পুরোনো গানের রিমেক। দুটো অ্যালবামই তুমুল জনপ্রিয় হয় ১৯৯৭ সালে। শ্রীকান্তর সংগীতজীবন আর ফিরে তাকায়নি।
২০০০ সালে তাঁর অ্যালবাম "বৃষ্টি তোমাকে দিলাম" প্রকাশিত হয়— যার শিরোনামের গানটি আজও বাঙালির ভালোবাসার তালিকায় শীর্ষে। সেই গান শ্রীকান্ত আচার্যকে পৌঁছে দেয় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার শিখরে।
তিনি কেবল সংগীতশিল্পী নন— আবৃত্তি, সুরসৃষ্টি, সঙ্গীত পরিচালনা এমনকি অভিনয়েও রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। নিজের পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর শিল্পপ্রেম দিয়ে আজও ধরে রেখেছেন জনপ্রিয়তা, ছুঁয়ে চলেছেন নতুন নতুন শ্রোতাপ্রাণ।
শ্রীকান্ত আচার্যকে জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।
তাঁর কণ্ঠে আরও বহু গান ফুটে উঠুক— আমাদের মন ছুঁয়ে যাক সেই সুরেরা।