নৃত্যপ্রেমীদের কাছে তিনি শুধু একজন কোরিওগ্রাফার নন—তিনি স্নেহ, প্রেরণা ও ভালোবাসার প্রতীক "গীতা মা"। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউড, টেলিভিশন এবং নৃত্যশিক্ষার জগতে তাঁর অসামান্য অবদান তাঁকে ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
১৯৭৩ সালের ৫ জুলাই মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন গীতা কাপুর। অল্প বয়স থেকেই নৃত্যের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান-এর নৃত্যদলে যোগ দেন। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে খুব দ্রুতই তিনি ফারাহ খানের অন্যতম বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সহকারী কোরিওগ্রাফার হিসেবে তিনি বলিউডের একাধিক কালজয়ী চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘কভি খুশি কভি গম’, ‘কাল হো না হো’, ‘ম্যায় হুঁ না’, *‘ওম শান্তি ওম’*সহ বহু জনপ্রিয় ছবির নৃত্য পরিকল্পনার পেছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
পরবর্তীতে তিনি স্বাধীন কোরিওগ্রাফার হিসেবে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলেন। ‘হে বেবি’, ‘তিস মার খান’, *‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’*সহ আরও অনেক সফল চলচ্চিত্রে তাঁর কোরিওগ্রাফি দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। তাঁর নৃত্য পরিচালনায় ভারতীয় শাস্ত্রীয়, লোকজ এবং আধুনিক নৃত্যের এক মনোমুগ্ধকর সমন্বয় দেখা যায়।
তবে গীতা কাপুরকে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা এনে দেয় টেলিভিশনের নৃত্যভিত্তিক রিয়েলিটি শোগুলো। ২০০৮ সালে ‘ড্যান্স ইন্ডিয়া ড্যান্স (DID)’-এর বিচারক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। টেরেন্স লুইস ও রেমো ডি'সুজা-র সঙ্গে তাঁর বিচারকের ত্রয়ী দর্শকদের কাছে ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়।