কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রতিগ্রাম বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম দুলালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
রবিবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক হারে পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে। তাদের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬০০ থেকে ১,২০০ টাকা এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ১,৭০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নীতিমালা ও প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক শাহ আলম। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে মিলন বাবু দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি হিসেবে তাঁর কাছ থেকে ১,৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
আরেক অভিভাবক জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁর কাছ থেকে ১,০০০ টাকা নেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক বিষয়টি অন্য কাউকে না জানানোর অনুরোধ করেন।
অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেয়ে রোকাইয়ার পরীক্ষার ফি বাবদ ৮৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষার ফি হিসেবে প্রায় ৫ লাখ টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে।
এছাড়াও পরীক্ষা শেষে প্রত্যয়নপত্র, প্রশংসাপত্র ও মূল সনদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুল রানা। তিনি বলেন, স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করার পর বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক তাঁকে হুমকি দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম দুলালের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
এ ঘটনায় অভিভাবকরা কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, “আমার কাছে লিখিত অভিযোগ এলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাফিজুর রহমান
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
