হিন্দি চলচ্চিত্রের সাদাকালো যুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র বীণা রায়-এর ১০৫তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র স্মরণ।
জন্মসূত্রে তাঁর নাম ছিল কৃষ্ণা সারিন। ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে ১৯২১ সালের ১৩ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীকালে দেশভাগের অস্থির সময়ে তাঁর পরিবার উত্তর প্রদেশে বসবাস শুরু করে। লখনউয়ের ইসাবেলা থোবার্ন কলেজে পড়াশোনার সময় একটি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়াই তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পুরস্কার হিসেবে তিনি পান ২৫ হাজার টাকা এবং কিশোর সাহু পরিচালিত কালীঘটা চলচ্চিত্রে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ।
বীণা রায়ের জীবনে ১৩ জুলাই দিনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এদিনই তাঁর জন্ম, প্রথম চলচ্চিত্রের চুক্তি স্বাক্ষর এবং কালীঘটা মুক্তির স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। একই দিনে অভিনেতা প্রেমনাথ-এর সঙ্গে তাঁর বাগদানও সম্পন্ন হয়। পরে ১৯৫২ সালের ২ সেপ্টেম্বর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি কর্মজীবনেও তাঁরা একসঙ্গে পথ চলেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন পি.এন. ফিল্মস প্রযোজনা সংস্থা।
তবে বীণা রায়কে অমর করে রেখেছে তাঁর অসাধারণ অভিনয়। বিশেষ করে প্রদীপ কুমার-এর বিপরীতে অভিনীত আনারকলি (১৯৫৩), ঘুঙট (১৯৬০) এবং তাজমহল (১৯৬৩) তাঁকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সমালোচকদের প্রশংসা। আনারকলি চলচ্চিত্রে তাঁর আবেগঘন অভিনয় আজও ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় নারী চরিত্রের অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঘুঙট চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি ১৯৬১ সালের ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর মায়াবী হাসি, অভিজাত ব্যক্তিত্ব এবং সংযত অভিনয়শৈলী তাঁকে সমসাময়িক অভিনেত্রীদের মধ্যে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য তিনি ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর নারীদের জন্য চলচ্চিত্রে যথাযথ চরিত্রের অভাব দেখা দেয়। পরবর্তীকালে তাঁর সন্তানরা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সিনেভিস্তাস ভারতীয় টেলিভিশনে গুল গুলশন গুলফাম, কথাসাগর, জুনুনসহ বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিক উপহার দিয়েছে।
২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর হৃদ্রোগজনিত জটিলতায় এই বরেণ্য অভিনেত্রীর জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্র, অনবদ্য হাসি এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত উপস্থিতি আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান।
হিন্দি চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের এই কিংবদন্তি শিল্পীর ১০৫তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর শিল্পসাধনা, সৌন্দর্য ও অভিনয়প্রতিভা আগামী প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকুক।
বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি, বীণা রায়।