মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ কিংবদন্তি অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী

[11:02 AM, 7/13/2026] +880 1920-482082: 
জন্ম: ১৩ জুলাই, ১৯০০ সাল, ছোট জাগুলিয়া, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত।
‘অভিনয়ের সময় তাঁর মতো অমন রাজকীয় উপস্থিতি আর কারও মধ্যে দেখিনি। স্টুডিও বা মঞ্চে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল দেখার মতো, হাবভাবে সবার থেকে আলাদা।’ ছবি বিশ্বাস নিয়ে এক স্মৃতিচারণায় কথাগুলো বলেছেন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।


ঐতিহ্যে, অর্থে, প্রতিপত্তিতে, দয়া-দাক্ষিণ্যে বনিয়াদি পরিবার হিসেবে কলকাতার বিডন স্ট্রিটের বিশ্বাস পরিবারের আলাদা পরিচিতি ছিল। ১৯০২ সালের ১৩ জুলাই এই বিশ্বাস বাড়িতেই জন্মেছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা ছবি (শচীন্দ্রনাথ) বিশ্বাস। তাঁর পিতা ভূপতিনাথ বিশ্বাস তাঁর দাতব্য কাজের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তার প্রথম নাম ছিল শচীন্দ্রনাথ, কিন্তু তার মা তার সুদর্শন ছেলের ডাকনাম রেখেছিলেন ছবি (একটি সুন্দর ছবি!) এবং এই নামটি তার জীবন ও কর্মজীবনে আটকে থাকে। তবে মায়ের স্নেহ জোটেনি বেশি দিন, ‘ছবি’র ১০ মাস বয়সে মা কাত্যায়নী মারা যান। মেজ কাকীর কাছে মানুষ হয়েছেন ছবি।

 

একটি বেসরকারি স্কুলে ছবি বিশ্বাসের শিক্ষাজীবন শুরু। পরে সেন্ট্রাল কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে হিন্দু স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। একসময় বিদ্যাসাগর কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন।
নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রের বাড়ির বৈঠকখানায় ছিল ‘বারবেলা বৈঠক ক্লাব’। এখানেই ছবি বিশ্বাসের অভিনয় জীবনের হাতেখড়ি। কলেজে শিশিরকুমার ভাদুড়ীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। গানবাজনাও করেছেন কিছুদিন। রেডিওতে আবৃত্তির অনুষ্ঠান করতেন নিয়মিত।


লম্বা, সুদর্শন ছবি বিশ্বাস চলচ্চিত্রজগতে প্রথম পা রাখলেন ১৯৩৬-এ বিশু চরিত্রে ‘অন্নপূর্ণার মন্দির’ ছবিতে। একে একে ‘নদের নিমাই’, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’, ‘সখের চোর’, ‘দেবী’, ‘শিউলিবাড়ি’, ‘রাজা সাজা’, ‘আম্রপালি’, ‘বিচারক’, ‘সপ্তপদী’, ‘নীলাচলে মহাপ্রভু’সহ প্রায় ২৫৬টি বাংলা ও ৩টি হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন করেন।


পোশাকে-চলনে-বলনে একটা পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। রহমতের আলখাল্লা থেকে বিশ্বম্ভরের বেনিয়ান, সাহেবি হ্যাট-কোট-স্যুট বা জোব্বা, নাইট গাউন তাঁকে মানিয়ে যেত। মানিয়ে যেত চুরুট। তাঁর বাচিক অভিনয় এমনই অনন্য ছিল যে নানা সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, আড্ডায় অনেকেই তাঁর কথা বলার ধরন মিমিক্রি করতেন। অবশ্য ছবি বিশ্বাসের এমন করে কথা বলার অন্য একটি কারণ ছিল। প্রচণ্ড অ্যাজমার সমস্যায় ভুগতেন। সে জন্যই একটু থেমে থেমে কথা বলতেন। আর এটাই যেন তাঁর ‘স্টাইল’ হয়ে যায়।
মঞ্চ থেকে ছবি, ছবি থেকে আবার মঞ্চ—দাপটে অভিনয় চালিয়ে গেছেন ছবি বিশ্বাস। তাঁর অভিনয় দক্ষতা ছিল অসাধারণ। চরিত্র কে তিনি একেবারে জীবন্ত করে উপস্থাপন করতেন পর্দায়। অভিনেতা হিসেবে যেমন, মানুষ হিসেবেও তেমনি ‘বড়’ মনের ছিলেন ছবি বিশ্বাস।


অন্যদের অভিনয় ক্ষমতাকে সব সময় বড় করে দেখতেন। উত্তমকুমার তো তাঁর কাছে স্নেহের ‘বড়ো হনুমান’। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সাক্ষাৎকারে জানা যায়, উত্তমকুমার বলেছিলেন, ‘ওঁর চোখের দিকে তাকিয়ে ডায়ালগ বলতে গেলেই সব ভুলে যাই। যেন বাজপাখির চোখ।’
পানের নেশা ছিল খুব। বাড়ি হোক বা শুটিং, রিহার্সাল—মুখে একটা পান থাকা চাই-ই চাই। সঙ্গে সব সময় থাকত একটি রুপার বাটি। ভেতরে সাজানো থাকত পান আর জর্দা।

 

১৯৬২ সালের ১১ জুন। গাড়িতে স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন ছবি বিশ্বাস। হঠাৎই ড্রাইভারকে সরিয়ে নিজেই চালকের আসনে বসলেন ছবি বিশ্বাস। তরুণকাল থেকেই মানুষটা গাড়ি চালনায় সিদ্ধহস্ত। একটা মালবাহী গাড়ি এসে সোজা ধাক্কা মারল গাড়িতে। গাড়ির স্টিয়ারিং সজোরে লাগল ছবি বিশ্বাসের বুকে। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল হৃৎস্পন্দন।
১৯৬২ সালের ১১ জুন গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান ছবি বিশ্বাস
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মৃত্যুর পর মন্তব্য করেছিলেন, ‘ছবিদা চলে গেলেন। এবার থেকে ব্যারিস্টারের চরিত্রগুলো কেটে মোক্তারের চরিত্র করতে হবে।