পরীক্ষা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনি। ঘটনার ৯ দিন পার হলেও কোনো খোঁজ মেলেনি তার। ভয় আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের।
থানায় লিখিতভাবে জানালে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বজনরা বলছেন, গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে আর বাসায় ফেরেনি রিয়া। বন্ধু ও স্বজনদের বাসায় খোঁজ নিয়েও কোথাও মেলেনি তার সন্ধান। পরে থানায় দেয়া হয় অভিযোগ।
রিয়া মনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামের রিপন সরকারের মেয়ে।
রিয়া মনির বাবা রিপন সরকার বলেন, ‘আমার মেয়েটা সেই যে ঘর থেকে বের হইলো আর আইলো না। পরীক্ষা দিতে বের হইছিল। পথের মধ্যে তারে কেউ জোর কইরা ধইরা নিয়া গেছে দেখছে একজন। এরপর এক সপ্তাহ কাটলেও কোনো খোঁজই পাই নাই। ঘরের মানুষদের নাওয়া-খাওয়া নাই। যতক্ষণ মাইয়ার খোঁজ না পাই শান্তি মিলবো না। প্রশাসনের কাছে এইটাই চাই মাইয়াডা জীবিত আছে নাকি এইটা অন্তত বের করুক।’
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে সন্তানসহ ৩ দিন ধরে নিখোঁজ প্রবাসীর স্ত্রী
রিয়ার দাদি অশ্রুসজল চোখে তাকিয়ে আছেন রিয়ার ফেরার অপেক্ষায়। প্রশাসনের কাছে দাবি জানান দ্রুতই যেন খোঁজ দেয়া হয় তার।
স্থানীয় ইউপি সদস্য অরুণ মিয়া বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও রিয়াকে পাওয়া যায়নি। পরে আমি থানায় অভিযোগ করতে বলি। আমাদের চাওয়া দ্রুতই ফিরে আসুক রিয়া মনি।
রিয়া মনির নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ।
বিষয়টির তদন্তের দায়িত্বে থাকা বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় কৃষ্ণ পাল বলেন, ‘সাধারণ ডায়েরি অনুযায়ী আমাদের চেষ্টা চলছে। রিয়া মনির স্বজনরা যাদের সন্দেহের তালিকায় রেখেছে তাদের কাছে আমরা গিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছি। রিয়ার হাতে কোনো ডিভাইস না থাকায় তার লোকেশন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখনো কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ঘটনার ১০ দিন হতে চললেও এখনো কোনো তথ্যের সন্ধান না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত অফিসার পরিবর্তন হয়েছে, বিষয়টি আমার কাছে হ্যান্ডওভার হয়। তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: নিখোঁজের পর শিশু সাইমার মরদেহ পাওয়া গেল প্রতিবেশীর খাটের নিচে
রূপসদী বৃন্দাবনের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ জমদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রিয়া পরীক্ষা দিতে স্কুলে আসেনি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের নিখোঁজের সংবাদটি দেয়া হয়। বিষয়টি দুঃখজনক।
