বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে এক নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী পার্শ্বচরিত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন গুণী অভিনেতা সৈয়দ আখতার আলী। অভিনয়ে অনাবিল স্বচ্ছতা ও স্বকীয়তার জন্যই দর্শকমনে তাঁর বিশেষ জায়গা তৈরি হয়েছিল।
তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৭ অক্টোবর ১৯৪১ সালে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলায়। পড়াশোনায় ছিলেন চারু ও কারুকলায় নিবেদিতপ্রাণ। ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম ও খ্যাতিমান শিল্পনির্দেশক মহিউদ্দিন ফারুক। ছাত্রাবস্থায়ই এক মডেলের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়।
চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৫ সালে সাদেক খান পরিচালিত ‘নদী ও নারী’ ছবির মাধ্যমে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে গড়েছেন একজন দক্ষ ও অভিনয়নিপুণ অভিনেতা হিসেবে।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সেতু, সূর্যদীঘল বাড়ি, সারেং বৌ, কি যে করি, সুরুজ মিয়া, এখনই সময়, বংশধর, শ্যামলছায়া প্রভৃতি।
অভিনয়ের বাইরে পরিচালক হিসেবেও নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ‘নাবালক’ নামে একটি ছবি পরিচালনার কাজ শুরু করলেও তা শেষ করা হয়ে ওঠেনি।
পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন চার পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।
এই গুণী শিল্পী ২২ জুলাই ২০১৩ সালে টঙ্গীর বোর্ড বাজারস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে সমাহিত করা হয় রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে।
তাঁর অবদান বাংলা চলচ্চিত্রে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শ্রদ্ধাঞ্জলি এই নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীকে।