নোয়াখালীর সদর উপজেলার ৯ নম্বর কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের সুন্দলপুর বাড়ির আব্দুর রহীমের ছেলে ও বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের বক্তা মাওলানা হামিদুল হক আরাফাতের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন, অর্থ দাবি এবং দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার প্রথম স্ত্রী শারমিন আক্তার।
বুধবার (২৯) তারিখে সংবাদ সম্মেলনে শারমিন আক্তার জানান, সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ইউনিয়নের চর রশিদ গ্রামের বছির আহমদের মেয়ে হিসেবে কয়েক বছর আগে তার সঙ্গে হামিদুল হক আরাফাতের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম সাত বছর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটে। এ সময় তাদের সংসারে এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।
হামিদুলের অবুঝ ছেলে মামুনুল হক বলছে তার বাবা তার মাকে মারধর করত ছুরি দিয়ে তার মাকেও ভয়-ভীতি মারধর করত নির্যাতন করতে দেখাতো ছোট কন্যা সন্তানটিও বলেছে তার মাকে নির্যাতন করতো তার বাবা।
তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর তার স্বামী শ্বশুরবাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল দাবি করেন। একমাত্র মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার বাবা-মা মোটরসাইকেল কেনার জন্য নগদ ১ লাখ টাকা দেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে আরও অর্থ নেওয়া হয়।
সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করেও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। পাশাপাশি তার বাবা-মায়ের কাছে কখনও ৫ লাখ, কখনও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাবার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দেওয়া হয়।
শারমিন আক্তারের দাবি, ২০২৩ সালে তার স্বামীর সঙ্গে কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে শিমু আক্তারের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকেই তার সংসারে অশান্তি শুরু হয় এবং স্বামীর আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন,হামিদুল হক আরাফাত নিজেকে জামায়াতের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। তার ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো আদর্শের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
মোঃ আরিফ হোসেন।
নোয়াখালী প্রতিনিধি।
