কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল্যবান মেহগনি গাছ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত বিধি উপেক্ষা করে কর্তন এবং সেই গাছের কাঠ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পক্ষে গাছ কাটার ভিডিও ফুটেজ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিডিও বক্তব্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে তিনি বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজের সময় বিদ্যালয়ের ভবনের পেছনে থাকা দুই থেকে তিনটি বড় মেহগনি গাছ শ্রমিক দিয়ে কেটে ভ্যানে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে গাছগুলো কোথায় নেওয়া হয়েছে, কী পরিমাণ কাঠ পাওয়া গেছে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—সে বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো হিসাব প্রকাশ করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা মেহগনি গাছ কেটে ভ্যানে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিডিও বক্তব্যেও দাবি করা হয়েছে, গাছ কাটার বিষয়ে এলাকাবাসী বা সংশ্লিষ্টদের কিছু জানানো হয়নি এবং গাছের কাঠেরও কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৫ জানুয়ারি ২০০৩ সালের পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে গঠিত কমিটির অনুমোদন, গাছের মূল্য নির্ধারণ এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই বিধি অনুসরণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে মৌখিকভাবে তিনি বলেন, পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনের ভিত্তিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের স্বার্থে গাছ কাটা হয়েছে। গাছ বিক্রি করা হয়নি; বরং বিদ্যালয়ের প্রয়োজনেই ওই কাঠ দিয়ে টেবিল-চেয়ার তৈরি করা হয়েছে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাছ কর্তনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে গঠিত কমিটির কোনো অনুমোদন বা রেজুলেশন নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যদি সত্যিই গাছের কাঠ দিয়ে টেবিল-চেয়ার তৈরি করা হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো বিদ্যালয়ে প্রদর্শন এবং গাছ কর্তন ও কাঠ ব্যবহারের সম্পূর্ণ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বড়ভিটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহাজাদা এর সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আক্তার জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
