মঞ্চ থেকে শুরু করে ছোটপর্দা, সেখান থেকে বড়পর্দা—প্রতিটি মাধ্যমে তিনি রেখেছেন অনন্য ছাপ।
জন্ম ৯ আগস্ট, পুরো নাম আঞ্জুমান আরা বেগম, ডাকনাম শিরিন। টেলিভিশন নাটকের নন্দিত এই অভিনেত্রী অসংখ্য নাটকে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
অভিনয়ে আসার শুরু মঞ্চে—‘পদধ্বনি’ থিয়েটারের আঙিনা ছিল তাঁর প্রথম পাঠশালা। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘তৃতীয় পুরুষ’ নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় অভিষেক। ১৯৯০–২০০০ পর্যন্ত থিয়েটারে নিয়মিত ছিলেন, এরপর ফের টিভি নাটকে মনোনিবেশ করেন। গত দুই দশকে অভিনয় করেছেন দুই হাজারেরও অধিক নাটকে—যা তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও জনপ্রিয়তার সাক্ষ্য বহন করে।
বড় বোন শামীমা চেয়েছিলেন তিনি হোন সঙ্গীতশিল্পী, কিন্তু শিরিন হয়ে উঠলেন টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। নাটকের পাশাপাশি বড়পর্দাতেও দারুণ সাফল্য পেয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—
শাস্তি (পরিচালনা: চাষী নজরুল ইসলাম), দারুচিনি দ্বীপ, মনপুরা, কি যাদু করিলা, গ্যাংস্টার, লাভ ম্যারেজ
এ পর্যন্ত প্রায় ১৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
গত কয়েক বছরে তাঁর অভিনয় বৈচিত্র্য নতুনভাবে দর্শকদের নজর কাড়ছে। বিশেষ করে বৃন্দাবন দাসের সাড়া জাগানো হাস্যরসাত্মক নাটক ‘হাড়কিপটে’ তাঁকে দেশ-বিদেশের বাঙালি দর্শকের কাছে আরও জনপ্রিয় করেছে।
শিরিন আলমের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। অনেক সমসাময়িক অভিনেত্রী যখন অবসরে, তখনও তিনি সমান ব্যস্ত—নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপন—সবখানেই। তাঁর নিজের ভাষায়, “কাজের মাঝেই আমার স্বস্তি।”
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন সন্তানের জননী—
শাহরিয়ার আলম: ক্যামেরাপার্সন; শাহনেওয়াজ আলম: পেশায় শেফ (ইতিপূর্বে সৌদিতে, বর্তমানে দেশে), সাকিন আলম প্রান্ত: শিক্ষার্থী
দীর্ঘ দুই যুগের পথচলায় শিরিন আলম নাট্যাঙ্গন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন বহুলাংশে। এ যাত্রায় তাঁর স্বামী এস এম শাহ আলম ছিলেন সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সৃজনশীলতার অব্যাহত ধারা কামনা করছি।