সিলেট কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের গুচ্ছা গ্রাম, আদর্শ গ্রাম(উৎমা) ছড়ায় গতমাসের ১২ তারিখ খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিনে অবৈধ বালু পাথরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা কালে প্রায় ৯৪ হাজার ঘনফুট স্টক পাথর জব্দ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
জব্দকৃত পাথর উন্মুক্ত নিলাম দেওয়া নিয়ে চলছে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন আগে দেওয়া লাইভে এসে অনেক মহিলা পুরুষ কান্না জড়িত কণ্ঠে দাবি জানান পাথর গুলো উন্মুক্ত নিলাম না দিতে। এছাড়াও গুচ্ছা গ্রাম এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ উন্মুক্ত নিলাম না দেওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করে আসছেন বিভিন্ন ভাবে।
প্রসঙ্গত, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত গুচ্ছা গ্রাম এবং আদর্শ গ্রাম এলাকায় যারা বসবাস করে তাদের কোনো জায়গা জমিন নেই। বিগত সরকার ভাসমান প্রায় ২০০ পরিবারকে উৎমা ছড়ার আদর্শ গ্রাম এলাকায় জায়গা দান করে।
২০১৮ থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ ভাবে চলে উৎমা পাথর কোয়ারি। ২০২১ সালের এপ্রিলের পর বন্ধ হয়ে যায় ইজারা।
এলাকাবাসীর দাবি ২০২১ সালে বৈধভাবে এই পাথর গুলো স্টক করে রাখা হয়। ইজারা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে প্রশাসনিক বাধায় পাথর গুলো বিক্রি বা অন্যত্র সরাতে পারেন নি। তাদের দাবি বৈধ ভাবে উত্তলিত পাথর ইজারা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিতে পারি তাই বলে ৬/৭ বছর এসে আমাদের পাথরগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে৷ আপনারা পাথর গুলো দেখেন তাইলে বুঝতে পারবেন। প্রতিটা স্টকে বড় বড় গাছ হয়ে গেছে। পাথর গুলো এক জায়গায় ৬/৭ বছর থাকার ফলে গেউর হয়ে গেছে, অনেক পাথর মাঠির মধ্যে ডুবে গেছে।
স্থানীয় নেতা কর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। পাথর গুলো নিয়ে অনেক স্বপ্ন। এগুলোই আমাদের বেচে থাকার একমাত্র সম্ভল। এগুলো সরকার নিয়ে গেলে আমাদের আর কিছু থাকবে না। দয়া করে উন্মুক্ত নিলাম বন্ধ করুন৷ প্রয়োজনে আমাদের কিছু জরিমানা করে আমাদের পাথর গুলো আমাদের ফিরিয়ে দিন৷ বিএনপি ও অংগ সংগঠনের অনেক নেতা কর্মীরা একই দাবি তুলে বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই দেখতেছি এখানো পাথর গুলো স্টক করা আছে। যা খেটে খাওয়া গরিব মেহনতি মানুষের একমাত্র সম্ভল। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করবো তাদের পাথর গুলো তাদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। প্রয়োজনে নামমাত্র মুল্য জরিমানা দিয়ে হলেও তাদের পাথর তাদের দেওয়া হোক।
