গীতিকার, সঙ্গীত শিল্পী, নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা, গান গেয়ে বিশাল অংকের অর্থ আয়কারীদের মধ্যে অন্যতম ব্যবসা সফল ব্যক্তিত্ব, দুনিয়া কাঁপানো প্রখ্যাত পপ তারকা, সমাজ সেবক মাইকেল জ্যাকসন এর শুভ জন্মদিন আজ। কিন্তু কে বলবে মাইকেল জ্যাকসন নেই! মৃত্যুর নয় বছর পেরিয়েও তার ‘মুনওয়াক’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমান উন্মাদনা।
খুব বেশি দিনের জীবন নয় তার। অথচ রেখে গিয়েছেন অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্পকথা। যা হার মানায় রূপকথাকেও। তিনি মাইকেল জ্যাকসন।
আজ ২৯ আগস্ট বিশ্ব সংগীতের এই মহা তারকার আজ জন্মদিন। বেঁচে থাকলে এ বছরে তিনি ৬০-তে পা রাখতেন। তিনি না থাকলেও আজকের জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে তার ভক্তরা নানা আয়োজনে তাকে স্মরণ করছেন।
বিশ্ব সংগীতের জনপ্রিয়তার রাজা। সংগ্রামী জীবন আর মানুষের ভালোবাসায় তিনি হয়ে ওঠেছিলেন কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা। নানা খেয়ালে ভরপুর ছিল জীবন তার।
যারা প্রতিনিয়ত হয় সামাজিক বৈষম্যের শিকার, জীবনের কোনো সুন্দর কোমল বৃত্তির কথা চিন্তা করাও বিলাসিতা মাত্র- এমন একটি পরিবারেই একদিন জন্মেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।
তবে অভাবের হলেও মাইকেলের পরিবার ছিলো সংগীতপ্রিয়। সেই গানপাগল পরিবারের কর্তা ছিলেন জোসেফ জ্যাকসন। নিজে ছিলেন গিটার বাদক। স্ত্রী ক্যাথেরিনও ভালোবাসতেন সংগীতের সুমধুর সুর।
তবে নয় সন্তানের বিশাল পরিবার সামলাতে গিয়ে জোসেফের আর গান-বাজনা করার তেমন সুযোগ থাকেনি।
বেঁচে থাকার সংগ্রামে নেমে পড়লেও বাবা চাইতেন- তার ছেলে-মেয়েরা গান করুক। তবে তিনি নিশ্চয়ই ভাবেননি- তার সাত নম্বর ছেলেটা এককালে সারা বিশ্বের এক নম্বরের পপ তারকা হয়ে উঠবেন। কিন্তু তাই হয়েছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।
সংগীতে তার অর্জন, সুনামের কাছে পরাজিত হয়েছে এই অঙ্গনে সর্বকালের মানুষদের জনপ্রিয়তা।
মাইকেলের জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে, ১৯৫৮ সালের ২৯ আগষ্ট। বাবা-মায়ের উৎসাহে ৬০’র দশকে জ্যাকসন পরিবারের অপর তিন সদস্য- জ্যাকি, টিটো এবং জার্মেইনের দলে আরেক ভাই মার্লোনকে সঙ্গে নিয়ে গাইতে শুরু করেন।
জ্যাকসন- ৫’র এ ক্ষুদে সদস্যরা শহরের নানা প্রান্তে গাইতে শুরু করে। তবে বাকিদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি প্রতিভাধর ছিলেন মাইকেল। তার গানের গলাও ছিল বালককন্ঠের হিসেবে অনেক পরিণত। ফলে এই ছোটদের দলটার নেতা হতে খুব বেশি সময় লাগেনি জ্যাকসনের।
১৯৭৯ সালে তার প্রথম সলো অ্যালবাম ‘অফ দ্য ওয়াল’ বের হয় কুইন্সি জোনসের প্রযোজনায়। এই অ্যালবামের চার চারটি গান ইউএস টপচার্টের প্রথম দশটি গানের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল।
শুরু হলো তার একচ্ছত্র আধিপত্য। এলভিস প্রিসলি পপসংগীতের সম্রাট হওয়া সত্ত্বেও মাইকেল জ্যাকসনকেই শ্রোতারা গুরু ডাকতে শুরু করল।
তারকাখ্যাতির সঙ্গে অর্থ-বিত্তের প্রাচুর্যে রূপকথার জীবন কাটাতে লাগলেন মাইকেল জ্যাকসন। গানের তালে তালে মাইকেলের নাচের
কৌশলগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাইকেলের জনপ্রিয় নাচের মধ্যে রবোট, ও মুনওয়াক অন্যতম।
জীবনে অর্জন করার মতো প্রায় সবই তিনি জয় করে নিয়েছিলেন। মাইকেল জ্যাকসন দু’বার ‘রক এন রোল হল অফ ফেম’-এ অন্তভূর্ক্ত হয়েছেন। সারা বিশ্বের সবচেয়ে বিক্রিত অ্যালবামের স্রষ্টাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
মাইকেলের কাছে সব কিছুর উর্দ্ধে ছিলো মানুষের ভালোবাসা। এ বিশ্বে আর কোনো তারকা এতো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেননি।
জীবনের শেষ দিকে এসে নানা যন্ত্রণায় বিরক্ত হয়ে শান্তির জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তিনি। জানা যায়, এ ব্যাপারে তার প্রযোজক বন্ধু ও গীতিকার ডেভিড ওয়ার্নসবি ও ফিলিপ বুবাল তাকে সহায়তা করেন।
তারা তাকে বুঝাতে সক্ষম হন তারা ইসলাম গ্রহণ করে কিভাবে সুন্দর জীবন যাপন করছেন। মুসলিম হবার পর তিনি মিকাঈল নাম গ্রহণ করেছিলেন।
২০০৯ সালের ২৫ জুন শেষরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লস এঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন মাইকেল জ্যাকসন।
আজকের দিনে শতাব্দী সেরা এ পপ তারকার প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।
