টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির পশ্চিম লাল্যাঘোনা সড়ক থেকে দুরছড়ি, মাইল্যা ও শিবির বাজার হয়ে মাইনীমুখ পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় এবং কোথাও কোথাও সড়কের ওপর পানি প্রবাহিত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ছড়া ও খালগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম লাল্যাঘোনা থেকে দুরছড়ি, মাইল্যা ও শিবির বাজার হয়ে মাইনীমুখ সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে ও স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গাড়ি চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষ। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজে এসব এলাকার মানুষকে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়।
কিন্তু সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অথবা বিকল্প উপায়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অতিবৃষ্টির সময় এ সড়কে পানি ওঠার ঘটনা নতুন নয়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে আসায় সড়কের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা ও ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়।
পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এবারও টানা বৃষ্টির কারণে সড়কের ওপর পানি জমে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।এদিকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে সমস্যায় পড়ছেন। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে পণ্য সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। তা না হলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই দীর্ঘ সময়ের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।এলাকাবাসী দ্রুত সড়কের পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে পানি কমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও কালভার্টগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফলে দুর্গম এসব এলাকার মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম,
