নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত মাংস উৎপাদন এবং ভোক্তাদের কাছে তা সঠিকভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নওগাঁর পোরশায় মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী (কসাই) ও মাংস বিক্রেতাদের দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পোরশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে দপ্তর প্রাঙ্গণের মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহিরুল ইসলাম। পোরশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আব্দুল আজিজ আলী।
প্রশিক্ষণে পোরশা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কর্মরত মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী ও কসাইরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু জবাই এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জবাই-পরবর্তী মাংসের গুণগত মান যাচাই, জীবাণুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানো, মাংস সংরক্ষণ ও প্রদর্শন এবং মাংস বিক্রির সময় ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া মাংস কাটার সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখা, মাংসের সঙ্গে অপরিষ্কার বস্তু বা দূষিত পানি ব্যবহার না করা এবং ক্রেতাদের কাছে নিরাপদ মাংস পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ ও মানসম্মত মাংসের সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাংস উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করলে মাংসের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং বাজারে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। মাংস বিক্রেতাদের সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস প্রক্রিয়াজাত ও বিক্রির আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজকরা জানান, নিরাপদ মাংস উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে শুধু পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নয়, জবাই থেকে শুরু করে মাংস ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা প্রয়োজন। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় কসাই ও মাংস বিক্রেতাদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাংস প্রক্রিয়াজাত ও বিক্রির বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
মোঃ আরিফুল হক সাহিন
পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
