শরতের কাশফুল আর শিউলির সুবাসে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে উৎসবের আমেজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা, প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার হোসেনপুর পৌরসভায় পাঁচটি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০টি মণ্ডপসহ মোট ১৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি তিনটি মন্দিরে গড পূজার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার সরকার।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, পূজা উদযাপন কমিটিগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা, ভক্ত-দর্শনার্থীদের যাতায়াত এবং নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলছে পরিকল্পনা। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিমাশিল্পী প্রীতম পাল জানান, এবারের প্রতিমা তৈরিতে নান্দনিকতা ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কুলেশ্বরী বাড়ি দেবালয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজীব চন্দ্র মোদক বলেন, “এবার পূজার আয়োজন আরও বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
বীরহাজীপুর কর্মকারপাড়া মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত বলেন, “সবাই যাতে নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
হোসেনপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমল চন্দ্র দেব (জগাই মেম্বার) বলেন, “১৫টি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের পাশাপাশি নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। প্রতিবছরই আমরা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাই। স্বাধীনতার আগে ও পরে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করি, এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।”
পূজাকে ঘিরে হোসেনপুরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিনের জন্য তৈরি হয় উৎসবের আবহ। মণ্ডপগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম, স্বজনদের মিলন এবং আনন্দ-উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পূজা দেখতে আসেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পূজার দিন যত এগিয়ে আসবে, মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার ব্যস্ততাও তত বাড়বে।
বদরুজ্জামান ভূঁইয়া সোহাগ
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
