পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মেডিকেল সার্টিফিকেটে সিম্পল ইনজুরিকে জটিল ইনজুরি (তথা গ্রিভিয়াস) উল্লেখ না উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসককে হেনস্তা, আরএমওর কার্যালয়ে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, মোবাইলে ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলার ১ নম্বর আসামি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৩ আগস্ট ২০২৬ আহত কয়েকজন রোগী পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসা শেষে তাদের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী মেডিকেল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। তবে ওই সার্টিফিকেট নিয়ে রোগীরা আপত্তি তোলেন এবং আরও বেশি ইনজুরির তথ্য উল্লেখ করার দাবি করেন।
এজাহার অনুযায়ী, ওই দিন মেডিকেল সার্টিফিকেট ইস্যু করেন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. রেজওয়ানা রিয়াজ।
তবে ডা. রেজওয়ানা রিয়াজ ও হাসপাতালের আরএমও (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রেজওয়ানুল্লাহর নামের মিল থাকায় রোগীরা মেডিকেল সার্টিফিকেট দেওয়া চিকিৎসকের খোজে আরএমওর অফিস কক্ষে যান এবং ওই মহিলা ডাক্তারকে ( ডা. রেজওয়ানা রিয়াজ) ধরিয়ে দিতে বলেন! তখন আর এম ও ডা. রেজওয়ানুল্লাহ তাদের দাবী মানতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আর এমও এর সাথে প্রচন্ড দুর্ব্যবহার করেন এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আরএমও (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, রোগীর শরীরে এটেন্ডিং চিকিৎসক কর্তৃক যতটুকু আঘাত পাওয়া গেছে, মেডিকেল সার্টিফিকেটে ততটুকুই উল্লেখ করা হবে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়ার সুযোগ বা এখতিয়ার চিকিৎসকের নেই।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পুর্বেই মো. কাওসার আলী (১৯) মোবাইল ফোনের ক্যামেরা চালু করে সেটি শার্টের সামনের পকেটে রেখে আরএমওর অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট তথা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি পরিবর্তনের জন্য আর এম ও কে চাপ দিতে থাকেন " বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর চিকিৎসককে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসককে নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও অপপ্রচারমুলক বক্তব্যসহ ভিডিও প্রচার করা হয়। এতে চিকিৎসকের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
ঘটনার বিষয়ে এজাহারে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরএমওর কার্যালয়ে প্রবেশ ও সেখানে অবস্থানের বিষয়টি ওই ফুটেজে দেখা যায়।
এ ঘটনায় চিকিৎসকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে মামলা করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মো. মাহাবুব আলম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
